১৫১০ খ্রিস্টাব্দে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু দক্ষিণ ভারত ভ্রমণকালে চাতুর্মাস্য ব্রত পালনের সময়কালীন চার মাস শ্রীরঙ্গম নামক স্থানে শ্রী ভেঙ্কট ভট্ট নামক এক ব্রাহ্মণের বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন। তাঁর অবস্থানকালে, তিনি পুরো পরিবারকে রামানুজ বৈষ্ণবত্ব থেকে কৃষ্ণভক্ত (গৌড়ীয় বৈষ্ণব) এ রূপান্তরিত করেছিলেন।

mahaprabhu8.jpg - 676654 Bytes
ভেঙ্কট ভট্টের পুত্র, গোপাল, তৎকালীন সাত বছর বয়সে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অবিরত সেবা করেছিলেন এবং মহাপ্রভুর প্রতি তাঁর প্রগাঢ় ভালবাসার বিকাশসাধন করেছিলেন। তাঁদের গৃহ থেকে ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রস্থান-প্রস্তুতির সময় যখন ভেঙ্কট ভট্ট মূর্ছা প্রাপ্ত হয়েছিলেন, বালক গোপাল ভট্টের নয়নযুগল তখন অশ্রুপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। বালকের প্রীতার্থে মহাপ্রভু আরও কয়েকদিন তাঁদের গৃহে অবস্থান করতে রাজি হয়েছিলেন। সেই সময়ে, মহাপ্রভু গোপাল ভট্টের নিকট স্বপ্নে নিজেকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ রূপে প্রকাশ করেছিলেন। ভগবান তাঁকে বলেছিলেন যে, একদিন তিনি বৃন্দাবনে রূপ গোস্বামী এবং সনাতন গোস্বামী নামক মানিকজোড় ভক্তের সাক্ষাৎ লাভ করবেন। স্বপ্ন থেকে জেগে তিনি তখনই বৃন্দাবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন, কিন্তু মহাপ্রভু তাঁকে গৃহে থেকে পিতা-মাতার সেবা করতে বলেছিলেন। স্বপ্নের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, পরে, তিনি বৃন্দাবনে গমন করেছিলেন এবং ষড় গোস্বামীর অন্যতম গোস্বামী হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিলেন।
 
ভেঙ্কট ভট্টের গৃহমন্দিরে অবস্থানকালে, ভগবান শ্রীচৈতন্য পুরীর ভগবান শ্রীজগন্নাথদেবের জন্য একাকীত্ব অনুভব করেছিলেন। বিচ্ছেদ ভাবাবস্থায়, নিজের জগন্নাথ বিগ্রহকে প্রেমাবিষ্টাবস্থায় ক্ষোদাই করেছিলেন, যে বিগ্রহটি আজও শ্রীরঙ্গমে ভেঙ্কট ভট্টের গৃহের অনতিদূরেই অধিষ্ঠিত রয়েছেন এবং সেবিত হচ্ছেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কর্তৃক ক্ষোদিত ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রা মহারাণীর বিগ্রহ অত্যন্ত সুন্দর, চিত্তাকর্ষক এবং মনোমুগ্ধকর।
 
জয় জগন্নাথ! জয় বলদেব! জয় সুভদ্রা মহারাণী।
Advertisements