কৃষ্ণ কুন্তীদেবীর প্রতি অধিক অনুগ্রহ প্রদর্শন করেছিলেন, কেননা তিনি যদিও দেব
কীর অন্যান্য পুত্রদের রক্ষা করেননি, কিন্তু কুন্তীর পুত্রদের তিনি রক্ষা করেছিলেন। তিনি তা করেছিলেন কেননা দেবকীর পতি বসুদেব জীবিত ছিলেন, কিন্তু কুন্তীদেবী ছিলেন বিধবা এবং কৃষ্ণ ছাড়া তাঁকে সাহায্য করার আর কেউ ছিল না।

prayers-by-queen-kunti

দেবকী একবার তাঁর ঈর্ষাপরায়ণ ভ্রাতার দ্বারা সংকটাপন্ন হয়েছিলেন, তা না হলে তিনি ভালই ছিলেন। কিন্তু কুন্তীদেবী ও তাঁর পুত্রেরা বছরের পর বছর ধরে একের পর এক দুঃখ-দুর্দশার সম্মুখীন
হয়েছিলেন। দুর্যোধন এবং তার দল তাঁদের নানা প্রকার অনিষ্ট সাধনের চেষ্টা করেছিল, এবং প্রতিবারই ভগবান তাঁদের রক্ষা করেছিলেন।

একবার ভীমকে বিষ প্রদান করা হয়েছিল, একবার তাঁদের জতুগৃহে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল, এবং দ্রৌপদীকে একবার দুষ্ট কৌরবদের সভায় নিয়ে এসে তাঁর বস্ত্রহরণ করা
র চেষ্টা করা হয়েছিল। ভগবান অন্তহীনভাবে দ্রৌপদীকে বস্ত্র সরবরাহ করে তাঁর লজ্জা নিবারণ করেছিলেন, এবং দুর্যোধনের দল তাঁকে বিবস্ত্রারূপে দেখতে ব্যর্থ হয়েছিল। তেমনই তাঁরা যখন বনে নির্বাসিত হয়েছিলেন, তখন হিড়িম্ব নামক এক নরখাদক রাক্ষসের সঙ্গে ভীমকে যুদ্ধ করতে হয়েছিল, কিন্তু ভগবান তাঁকে রক্ষা করেছিলেন। এইখানেই শেষ নয়। এত সমস্ত দুঃখ-দুর্দশার পর কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গনে এক মহাযুদ্ধের আয়োজন হয়েছিল, এবং অর্জুনকে দ্রোণ, ভীষ্ম, কর্ণ প্রমুখ সমস্ত মহান শক্তিশালী যোদ্ধাদের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এর অবশেষে, সমস্ত কিছুর সমাপ্তির পরেও উত্তরার গর্ভস্থ সন্তানকে হত্যা করার জন্য দ্রোণাচার্যের পুত্র অশ্বত্থামা ব্রহ্মাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, এবং তখন ভগবান কুরুবংশের একমাত্র জীবিত বংশধর পরীক্ষিৎ মহারাজকে রক্ষা করেছিলেন।

অতএব সিদ্ধান্ত হচ্ছে যে, যারা অধিক বিপদগ্রস্ত কৃষ্ণ তাদের অধিক অনুগ্রহ করেন।

f2803dbb9fb71ff57f20f662c9898593.jpg

Advertisements