Quotes-by-Srila-Prabhupada-on-Supreme-Reality
মূর্খ মানুষ হচ্ছে তারা যারা ভগবানের প্রভুত্বের প্রতি বিদ্রোহ করে। এই প্রকার ব্যক্তিদের বলা হয় অসুর। অসুরেরা ভগবানের কর্তৃত্ব মানতে চায় না। ভগবান স্বয়ং যখন আমাদের সম্মুখে রাম, নৃসিংহ, বরাহ অথবা তাঁর কৃষ্ণ স্বরূপে আবির্ভূত হন, তখন তিনি বহু আশ্চর্যজনক কার্য সম্পাদন করেন যা মানুষের পক্ষে অসম্ভব। দ্বাপরলীলায় শ্রীকৃষ্ণ যখন মায়ের কোলে ছিলেন তখন থেকেই তিনি মানুষের15624297_697984347043625_8138274796065521664_n পক্ষে অসম্ভব সমস্ত কার্যকলাপ প্রদর্শন করেছিলেন। পুতনা রাক্ষসী যদিও তার স্তনে বিষ মাখিয়ে ভগবানকে হত্যা করতে এসেছিলেন, কিন্তু সেই পুতনাকে তিনি সংহার করেছিলেন। একটি সাধারণ শিশুর মতো তিনি তার স্তন পান করার মাধ্যমে তার প্রাণবায়ু শুষে নিয়েছিলেন।
 
তেমনই, একটি বালক যেমন অনায়াসে একটি ব্যাঙের ছাতা তুলে ধরে, ঠিক সেইভাবে তিনি গোবর্ধন পর্বত ধারণ করেছিলেন, এবং বৃন্দাবনের অধিবাসীদের রক্ষা করার জন্য তিনি কয়েকদিন ধরে সেটি সেইভাবে ধারণ করেছিলেন। এইগুলি পুরাণ, ইতিহাস, উপনিষদ আদি প্রামাণিক বৈদিক শাস্ত্রে বর্ণিত ভগবানের অলৌকিক কার্যকলাপের কয়েকটি বর্ণনা। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার মাধ্যমে তিনি তাঁর অলৌকিক উপদেশ প্রদান করেছেন। তিনি একজন যোদ্ধারূপে, গৃহস্থরূপে, শিক্ষকরূপে, ত্যাগীরূপে তাঁর অদ্ভুত ক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন। 
iskcon-temple-patna
 
ব্যাস, দেবল, অসিত, নারদ, মধ্ব, শংকর, রামানুজ, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, শ্রীজীব গোস্বামী, শ্রীবিশ্বনাথ চক্রবর্তী, ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী এবং এই ধারায় সমস্ত মহাজনগণ কর্তৃক তিনি পরমেশ্বর ভগবান বলে স্বীকৃত হয়েছেন। তিনি নিজেও প্রামাণিক শাস্ত্রের বহু জায়গায় সেকথা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও এক শ্রেণীর আসুরিক মনোভাবাপন্ন মানুষ রয়েছে, যারা সর্বদাই ভগবানকে পরম সত্য বলে স্বীকার না করতে বদ্ধপরিকর। তার একটি কারণ হচ্ছে তাদের জ্ঞানের অভাব এবং অন্য কারণটি হচ্ছে তাদের পূর্বকৃত ও বর্তমান দুষ্কর্মের ফলস্বরূপ অদম্য জেদ।
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
 
আরেকটি অসুবিধা হচ্ছে যে, যারা তাদের ভ্রান্ত ইন্দ্রিয়ের উপর অধিক নির্ভরশীল, তারা কখনোই তাঁকে পরমেশ্বর ভগবান বলে জানতে পারে না। এই প্রকার মানুষেরা আধুনিক বৈজ্ঞানিকদের মতো। তারা সবকিছু তাদের গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানের মাধ্যমে জানতে চায়। কিন্তু ভ্রান্ত গবেষণালব্ধ জ্ঞানের দ্বারা পরমেশ্বর ভগবানকে জানা কখনোই সম্ভব নয়। তিনি অধোক্ষজ, অর্থাৎ, ইন্দ্রিয়ের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের অতীত। আমাদের সবকটি ইন্দ্রিয়ই ভ্রান্ত। আমরা সবকিছু দেখার দাবি করি, কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে আমাদের এই দর্শন কতকগুলি জাগতিক অবস্থার অধীন, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের অতীত।
ISKCON Temple NVCC Pune MH (59).JPG
 
অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের জন্য তাই মন্দির, মসজিদ অথবা গির্জার অবশ্য প্রয়োজন, যাতে তারা পরমেশ্বর ভগবানকে জানতে পারে এবং এই প্রকার পবিত্র স্থানে তত্ত্বজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছে তাঁর সম্বন্ধে শ্রবণ করতে পারে। অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের জন্য, পারমার্থিক জীবনের শুরুতে এটি অত্যন্ত আবশ্যক। মূর্খ মানুষেরাই কেবল ভগবানের আরাধনার এই সমস্ত স্থানগুলি প্রতিষ্ঠা করার বিরোধিতা করে, যেগুলি জনসাধারণের পারমার্থিক উন্নতি সাধনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। উন্নত ভক্তের পক্ষে সক্রিয় সেবার মাধ্যমে তাঁর ধ্যান করার মতোই অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের পক্ষে মন্দির, মসজিদ অথবা গীর্জায় ভগবানের সম্মুখে ভগবানের প্রভুত্ব স্বীকার করে মস্তক অবনত করা সমান মঙ্গলজনক।
Advertisements