পরমেশ্বর ভগবানের নির্দেশনায় পরিচালিত হয় যে প্রকৃতির কঠোর নিয়ম, তা কোনও জীব পরিবর্তন করতে পারে না। সমস্ত জীব নিত্যকাল সর্বশক্তিমান ভগবানের অধীন। ভগবান সমস্ত বিধি-নিয়ম সৃষ্টি করেন, এবং এই সমস্ত বিধি-নিয়মকে সাধারণত বলা হয় ধর্ম। কেউই কোন ধর্মের সূত্র সৃষ্টি করতে পারে না। সদ্ধর্ম হচ্ছে ভগবানের নির্দেশ পালন করা। ভগবানের নির্দেশ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় স্পষ্টভাবে বিঘোষিত হয়েছে। সকলেরই কর্তব্য কেবল তাঁকে অথবা তাঁর আদেশকে অনুসরণ করা, এবং সেটিই তাঁদেরকে ভৌতিক এবং আধ্যাত্মিক উভয় দিক দিয়েই সুখী করবে।

17425989_1926281527606446_1006189543933051686_n

আমরা যতক্ষণ জড় জগতে রয়েছি, ততক্ষণ আমাদের কর্তব্য হচ্ছে ভগবানের আদেশ পালন করা; আর ভগবানের কৃপায় আমরা যদি জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারি, তা হলে আমাদের মুক্ত অবস্থায়ও আমরা পরমেশ্বর ভগবানের প্রতি আমাদের দিব্য প্রেমময়ী সেবা নিবেদন করতে পারি। আমাদের বদ্ধ অবস্থায়, চিন্ময় দৃষ্টির অভাবে, আমরা ভগবানকে দর্শন করতে পারি না, এমনকি নিজেদেরও দর্শন করতে পারি না। কিন্তু আমরা যখন জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে আমাদের শাশ্বত চিন্ময় স্বরূপে অধিষ্ঠিত হই, তখন আমরা প্রত্যক্ষভাবে ভগবানকে এবং নিজেদেরও দর্শন করতে পারি।

মুক্তি মানে হচ্ছে জাগতিক জীবনের ধারণা ত্যাগ করে চিন্ময় স্বরূপে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়া। তাই মানব জীবনের বিশেষ উদ্দেশ্য হচ্ছে এই চিন্ময় মুক্তি লাভের জন্য যোগ্যতা অর্জন করা। দুর্ভাগ্যবশত, মায়ার মোহময়ী প্রভাবে, আমরা কয়েক বছরের ক্ষণস্থায়ী জীবনকে আমাদের শাশ্বত অস্তিত্ব বলে বরণ করি, এবং তার ফলে মায়ার মিথ্যা প্রকাশস্বরূপ তথাকথিত দেশ, গৃহ, ভূমি, সন্তান-সন্ততি, পত্নী, সমাজ, সম্পত্তি ইত্যাদির মোহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ি। এইভাবে আমরা মায়ার নির্দেশে আমাদের এই সমস্ত মিথ্যা কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য পরস্পরের সঙ্গে সংগ্রাম করি।

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

দিব্য জ্ঞানের অনুশীলনের দ্বারা আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে এই সমস্ত জড় বিষয়গুলির সঙ্গে আমাদের কোনই সম্পর্ক নেই, এবং তৎক্ষণাৎ আমরা জড় আসক্তি থেকে মুক্ত হই। বিভ্রান্তচিত্ত ব্যক্তিদের অন্তরের গভীর প্রদেশে চিন্ময়-শব্দ তরঙ্গের সঞ্চার করে সমস্ত শোক এবং মোহ থেকে মানুষকে মুক্ত করতে সক্ষম যে ভগবদ্ভক্ত, তাঁর সঙ্গ প্রভাবে মায়াচ্ছন্ন জীবের ভ্রান্তি তৎক্ষণাৎ দূর হয়ে যায়। এটিই হচ্ছে জন্ম, মৃত্যু, জরা এবং ব্যাধিরূপে প্রকাশিত জড়া প্রকৃতির কঠোর নিয়মের প্রভাবে ক্লিষ্ট জীবের সান্ত্বনা লাভের পরম উপায়।

Advertisements