শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য শিক্ষা সংস্কৃতি সংঘ

শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট

শ্রীহট্টের ঢাকাদক্ষিণ হচ্ছে কলিযুগপাবনাবতারী শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর পৈতৃক নিবাসস্থল। তাই শ্রীচৈতন্যমহাপ্রভুর শিক্ষা, আদর্শ ও স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে সিলেটের স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নামানুসারে এই সংগঠনের নাম করা হয়েছে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য শিক্ষা সংস্কৃতি সংঘ কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন), সিলেট এর অন্যতম সংগঠন ইসকন ইয়ুথ ফোরাম, সিলেট এর মাধ্যমে এটি পরিচালিত হবে।

মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ঃ শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রচার ও ভক্তি।

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা, সংস্কৃতিকে হৃদয়ে ধারণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁর বাণী প্রচারের মাধ্যমে শুদ্ধ কৃষ্ণভক্তি লাভ করাই এই সংগঠনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

logo (1).jpg

লোগোর ব্যাখ্যাঃ

পদ্মফুলের পাঁপড়িঃ পদ্মফুল ভক্তির প্রতীক। এর বারটি পাঁপড়ি নববিধা ভক্তির মাধ্যমে ত্রিগুণকে অতিক্রম করা বুঝাচ্ছে।

ষটকোণঃ লোগোতে ব্যবহৃত ষটকোণ গোলোক ধামের প্রতীক, শ্রীকৃষ্ণের বাসভূমি। দুটি সমমাপের ত্রিভুজের সমন্বয়ে এটি গঠিত – ঊর্ধ্বগামী ত্রিভুজটি ‘পুরুষ’ এবং নিম্নগামীটি ‘প্রকৃতি’র তাৎপর্য বহন করছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন চিহ্ন হিসেবে জ্ঞাত। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের বর্ণনা অনুযায়ী, ষড়ভুজের কেন্দ্রে বীজমন্ত্র (ওঁ) এবং ছয়টি কোণ ষড়-ঐশ্বর্য যথা – ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য নির্দেশ করে।

হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্রঃ হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র হল আমাদের অপ্রাকৃত চেতনাশক্তি পুনর্জাগরণের একমাত্র দিব্য উপায়। আপনাদের শাশ্বত কৃষ্ণভাবনা পুনর্জাগরণ করে ভগবদ্ধামে প্রত্যাবর্তনের আলোর দিশারী স্বরুপ এই হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র, যা ব্যতীত জীবের উদ্ধারের অন্য কোন পন্থা নেই।

স্বস্তিঃ স্বস্তি হচ্ছে মঙ্গল বা কল্যাণ, সৌভাগ্য, আশীর্বাদ ও সমৃদ্ধির প্রতীক।

শ্রীল প্রভুপাদঃ লোগোতে ব্যবহৃত কৃষ্ণভাবনাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের চিত্র শ্রীশ্রী ব্রহ্ম-মার্ধ্ব-গৌড়ীয় সম্প্রদায়ের প্রতীক। তিনি হচ্ছেন আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) এর  প্রতিষ্ঠাতা আচার্য। তাঁর আদর্শ ও শিক্ষাই হচ্ছে এই সংগঠনের প্রাণ-স্বরূপ। সমগ্র জগতের কাছে মঙ্গলের বাণী পৌঁছে দেবার জন্য তাঁর বৃদ্ধাবস্থাতেও সমগ্র পৃথিবী চৌদ্দ বার পরিক্রমা করেন। মানুষের মঙ্গলার্থে এই প্রচার-সূচীর পূর্ণতা সাধন করেও তিনি বৈদিক দর্শন, সাহিত্য, ধর্ম ও সংস্কৃতি সমন্বিত ৮০ টি গ্রন্থাবলী রচনা করে গেছেন, যার মাধ্যমে এ জগতের মানুষ পূর্ন আনন্দময় এক দিব্য জগতের সন্ধান লাভ করবে। তিনি এই জড়বাদী ইন্দ্রিয়তৃপ্তি কেন্দ্রিক সভ্যতায় এক নতুন জীবন প্রণালী, এক পরিশুদ্ধ সুন্দর পবিত্র জীবনধারা সারা পৃথিবীতে প্রবর্তন করে গিয়েছেন, যা আধুনিক বিশ্বে এক নতুন পারমার্থিক রেনেসাঁ বা নবজাগরণের সূত্রপাত করেছে।

গ্রন্থঃ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, শ্রীমদ্ভাগবত, শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত এবং শ্রীল প্রভুপাদ রচিত সমস্ত গ্রন্থাবলী জীবন নির্বাহ ও প্রচারের মূল ভিত্তিস্বরূপ।

মৃদঙ্গ ও করতালঃ

নমো জগন্নাথ গৌরাঙ্গো নমো নমঃ।

নমস্তে খোল-করতাল নমো কীর্তন মণ্ডলী।।

মৃদঙ্গকে বলরামের অবতার বলা হয়। মৃদঙ্গকে শ্রীমন্মহাপ্রভুর অঙ্গের সাথে তুলনা করা হয়েছে। মৃদঙ্গ হচ্ছে মহাপ্রভুর সংকীর্তন আন্দোলনের হৃদয় পরিবর্তনকারী দিব্যপ্রেম অস্ত্র। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দিব্য নাম-কীর্তন কালে এই জোরালো যন্ত্রটি ভক্তদের সৌভাগ্যময়/মঙ্গলকর পরমানন্দ প্রদান করে।

করতাল হচ্ছে শ্রীবাস ঠাকুরের প্রতীক। এটিও মহাপ্রভুর সংকীর্তন আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দিব্য অস্ত্র।

কীর্তনমেলার লোগোঃ অবিরত কীর্তনের প্রতীক।

মহাপ্রভুঃ আমাদের আদর্শের মূল কেন্দ্রবিন্দু। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর প্রথম বিবাহের পর শ্রীহট্টে এসেছিলেন। সেজন্য এখানে সন্ন্যাস-পূর্ব চিত্র ব্যবহৃত হয়েছে।

রাধাকৃষ্ণঃ শ্রীমন্মহাপ্রভু সংসারক্লিষ্ট জীবের উদ্ধারকল্পে গোলোক বৃন্দাবনের প্রেমধন হরিনাম সংকীর্তন অকাতরে বিতরণ করেছেন এবং শ্রীশ্রী রাধামাধব-ই আমাদের জীবনের চরম লক্ষ্য, সেই শিক্ষা প্রদান করেছেন। এজন্য লোগোর ঊর্ধ্বভাগে শ্রীশ্রী রাধামাধবের চিত্র ব্যবহৃত হয়েছে।

Advertisements