চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজত্বকালে একবার এক চীনা পর্যটক ভারতে এসেছিলেন। তিনি চন্দ্রগুপ্তের রাজ্য-সংগঠনের ব্যাপারে আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলেন। তাই তিনি একবার চন্দ্রগুপ্তকে, তিনি কিভাবে এই বিশাল রাজ্য পরিচালনা করেন এবং প্রজাদের সন্তুষ্টিবিধান করেন তা বর্ণনা করতে অনুরোধ করেছিলেন।

মৌর্যসম্রাট চন্দ্রগুপ্ত তখন বলেছিলেন যে, তাঁর প্রতিভাবান মন্ত্রী যিনি শীঘ্রই প্রধান উপদেষ্টা হতে যাচ্ছেন, এই সাংগঠনিক কার্যকলাপের যিনি বাস্তবরূপ দিয়েছিলেন। তাই পর্যটকটি তখন তার মন্ত্রীর সাথে দেখা করার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। চন্দ্রগুপ্ত তখন বলেছিলেন যে, তিনি রাজ্যের সীমান্ত-অঞ্চলে বসবাস করেন। তাই, তারা দুজনে ঘোড়ায় চেপে তার বাড়িতে গিয়েছিলেন।

chanakya

পর্যটকটি মন্ত্রীর সাধারণ খড়ের ঘর দেখে অবাক হয়েছিলেন। যখন তারা ঘরের ভিতরে প্রবেশ করলেন, সেখানে চাণক্য পণ্ডিতকে বসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র লিখতে দেখলেন। তিনি তাদেরকে বসতে অনুরোধ করলেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই লেখা সমাপ্ত করলেন। তারপর তিনি হারিকেন বাতিটি নিভিয়ে স্বল্প আলোর একটি মোমবাতি ধরালেন। তারপর তিনি চীনা পর্যটককে জিজ্ঞেস করলেন, “দয়া করে বলুন, আমি আপনার কি সেবা করতে পারি?”

চীনা পর্যটক বললেন, “আমি অন্য কিছু জিজ্ঞেস করার পূর্বে আপনি দয়া করে বলুন, আপনি কেন উজ্জ্বল দীপ্তির হারিকেন বাতিটি নিভানোর মতো বিস্ময়কর কার্যটি করলেন?” চাণক্য উত্তর করলেন, “এই হারিকেন বাতিটি আমাকে সরকার কর্তৃক সরবরাহ করা হয়েছে, যেটির আলোয় আমি রাষ্ট্রের সরকারী নথিপত্র লিখি। কিন্তু এখন আমার ব্যক্তিগত কাজে আমার নিজ স্বল্পবৃত্তি-কৃত মোমবাতি ব্যবহার করি।”

চীনা পর্যটকটি চাণক্যের সততায় হতবাক হয়েছিলেন। তিনি এখন বুঝতে পারলেন, কেন চন্দ্রগুপ্তের রাষ্ট্র-সংগঠনটি এরকম সমৃদ্ধশালী, উদীয়মান এবং অদ্ভুত। কারণ তাঁর মন্ত্রী ছিলেন একজন ন্যায়-ব্যাক্তিত্ব, যিনি কঠোরভাবে তাঁর নির্দেশনাসমূহ অনুসরণ করেন।

Advertisements