শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী অধ্যয়নের প্রয়োজনীয়তা শ্রীমৎ শ্রীল কেশব ভারতী দাস গোস্বামী কর্তৃক দুটি ব্যাসপূজা শ্রদ্ধাঞ্জলীতে অভিব্যক্ত হল।

(ব্যাসপূজা শ্রদ্ধাঞ্জলী ২০১৬)

 

নমো ওঁ বিষ্ণুপাদায় কৃষ্ণপ্রেষ্ঠায় ভুতলে

শ্রীমতে ভক্তিবেদান্ত স্বামীনিতি নামিনে।

নমস্তে সারস্বতে দেবে গৌরবাণী প্রচারিনে

নির্বিশেষ শূণ্যবাদী পাশ্চাত্যদেশ তারিণে।।

 

প্রিয়তম শ্রীল প্রভুপাদ,

আপনার শ্রীচরণকমলরেণুয় আমার ভূ-পতিত প্রণতি গ্রহণ করুন, যে চরণ-রেণু আপনার ভক্তিবেদান্ত তাৎপর্যের মাধ্যমে বিশ্বের চিরস্থায়ী উন্নয়ন সাধন করবে। শ্রীল প্রভুপাদ, ১৯৬৬ সালে আপনি সংঘবদ্ধকরণের পর থেকে এই সনের ইসকন পরিচালনা সংঘে (আই.এল.এস) – যেটি ছিল আপনার ইসকন সংঘবদ্ধকরণের পঞ্চাশ বর্ষপূর্তি উদযাপনের একটি হৃদয়গ্রাহী পদাঘাত, আপনার আন্দোলনের এতদূর অগ্রগতির পথে আমরা অনেক কিছু শিখতে পেরেছি, বিশেষত বর্ধিত ভক্ত ও কেন্দ্রসংখ্যার ফলে, যাঁরা সমগ্র বিশ্বব্যাপী শ্রীকৃষ্ণের দিব্যনাম, গ্রন্থের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণের পরম সত্তা-সমন্বিত জ্ঞান এবং তাঁর দিব্য লীলাসমূহ, এবং অবশ্যই কৃষ্ণপ্রসাদ (ভক্তিমূলক সেবায় নিবেদিত খাবারের অবশিষ্টাংশ) বিতরণ করছেন।

Prabhupada.jpg

১৯৭৭ সালে, আপনার অন্তর্ধানকালে, প্রতিটি মহাদেশে ১০৮ টি মন্দির এবং অন্যান্য প্রকল্পসমূহের মাধ্যমে কৃষ্ণভাবনা বিতরিত হচ্ছিল। বর্তমানে সারা বিশ্বে ৬০০-র অধিক মন্দির রয়েছে। ঐসকল কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে ১২০০ জন অগ্রদূত কিভাবে আপনার প্রচারকার্যে বিশেষভাবে সহযোগিতা করা যায় তা আলোচনা করতে শ্রীধাম মায়াপুরে সমবেত হয়ে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন এবং আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। এটি কেবল দেখতে অণুপ্রেরণীয় যে, অগ্রদূতগণ তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টার সাক্ষ্য দিতে, আপনার আন্দোলনকে সংগঠিত করতে, বজায় রাখতে এবং সম্প্রসারিত করতঃ সবদিকে উন্নয়নসাধন করার শিক্ষালাভ করতে একত্রিত হয়েছেন।

পরিশেষে, সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে, অগ্রদূতগণ আপনার গ্রন্থাবলী কতটুকু অধ্যয়ন করছেন, তার একটি জরিপ করা হয়েছিল। ১২০০ নিবন্ধভুক্ত নেতৃত্বকারীদের মধ্যে ৭০০ জন গত অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই ৭০০ জনের মধ্যে মাত্র ২৫০ জন জরিপ-পত্র পূরণ করেছিলেন। এই ২৫০ জন ভক্ত গড়ে প্রায় ১৯ বছর ধরে ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত রয়েছেন। জরিপ থেকে দেখা যায় যে, গত ১৯ বছরে তাঁদের শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অধ্যয়নের গড়সংখ্যা ছিল ৪, শ্রীমদ্ভাগবতের ১ম স্কন্ধ ১.৮, শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত ০.৯। আমি আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলাম যে, জরিপ পত্রটি ১২০০ জন অগ্রদূত পূরণ করলে হয়তো গ্রন্থ-অধ্যয়নের গড়সংখ্যাটি এমনই হতো।

Quotes-by-Srila-Prabhupada-on-Distributing-Books.jpg

শ্রীল প্রভুপাদ, ১৯৭৪ সালে, ইসকন সানফ্রানসিসকো-র রথযাত্রা মহোৎসবের সময়, আপনার দর্শন-কক্ষে সাক্ষাৎ লাভের বিশেষ সুবিধা-প্রাপ্ত গ্রন্থ প্রচারকদিগের মধ্যে আমি অন্যতম। আমাদের প্রতি আপনার প্রথম উক্তিটি ছিল, “তোমরা কি আমার গ্রন্থগুলি পড়ছো?” আপনি জোরপূর্বক বলতে থাকলেন যে, আপনি গ্রন্থগুলি আমাদের পড়ার জন্য লিখছেন, শুধুই বিতরণের জন্য নয়। বলা বাহুল্য, আপনার উপদেশগুলি এমনভাবে পর্যবসিত হচ্ছিল যেন আপনার মুখগহ্বর থেকে সরাসরি আমাদের কর্ণে প্রবেশ করছিল, তা আমার হৃদয়ের মধ্যে অসাড়তা সৃষ্টি করেছিল।

আমাদের প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য হিসেবে আপনি আমাদের দৃষ্টান্তসমেত শিক্ষা দিয়েছিলেন যে, আপনার গ্রন্থাবলী অধ্যয়ন করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, পরে একই বছরে, ১লা অক্টোবর, আপনি হংসদূতকে এটি লিখেছিলেনঃ

“আমরা শাস্ত্রগ্রন্থাবলী বারবার অধ্যয়ন করি, তথাপি তা নূতনই থাকে। যখন সময় পাই, আমি আমার নিজের গ্রন্থগুলি পড়তে থাকি।”

prabhupadainspectingbhagavatam-620x350

শ্রীল প্রভুপাদ, আপনি স্পষ্টতই একটি প্রবণতা দেখেছেন। যখন গ্রন্থসমূহ ছাপানো এবং বিতরণ বৃদ্ধির প্রতি আমাদের প্রচেষ্টা তীব্রতর হয়, ভক্তরা তা তৈরি করে এবং প্রচারকেন্দ্রে তা উন্মুক্ত হয়, তখন আপনার গ্রন্থাবলী পড়ার প্রতি আমাদের সাধারণ প্রবণতা হ্রাস পায়।

গত চুয়াল্লিশ বছর যাবৎ আমি আপনার গ্রন্থাবলী পড়ছি, আমি আপনার কৃষ্ণভাবনার প্রচার-অধিকারপ্রাপ্ত অগ্রদূতগণের সাক্ষ্য বহন করে বলছি যে, ব্যবস্থাপনা দায়িত্ব ধীরে ধীরে বৃদ্ধির সাথে সাথে আপনার গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন-প্রবণতা ক্রমান্বয়ে কমে যায়। এবং আমি দেখেছি যে, যখন তাদের অধ্যয়ন বন্ধ হয়ে যায়, তখন তারা স্বদলত্যাগী হয়ে যায়, নিম্নোল্লিখিতভাবে আপনার ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হয়ঃ

“কৃষ্ণভাবনায় যুক্ত সকল ভক্তদেরকে অবশ্যই অনূদিত গ্রন্থসমূহ (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, শ্রীমদ্ভাগবত, শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত এবং অন্যান্য) অধ্যয়ন করতে হবে; অন্যথায়, কালক্রমে তারা শুধু খাবে, ঘুমাবে এবং তাদের অবস্থান থেকে বিচ্যুতি ঘটবে। ফলে তারা দিব্য আনন্দের নিত্য, সুখী জীবন প্রাপ্ত হওয়ার সুযোগটি হারাবে। (শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত, মধ্যলীলা, ২৫.২৭৮, তাৎপর্য)”

তারপর, আপনার তাৎপর্যকৃত নির্দেশনাসমূহ আমাদের ভক্তিমূলক সেবার সফল সম্পাদনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ? আমরা অত্যাবশ্যকরূপে বিনয়ের সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে শ্রবণ করি এই শিক্ষালাভ করতে যে, কিভাবে কৃষ্ণভাবনার প্রচারে উদ্ভূত অনিবার্য সমস্যাগুলি মোকাবেলা করতে হয়? এটি সত্য, আমরা জানি না যে, আপনার ভক্তিবেদান্ত তাৎপর্যে প্রদত্ত সাবলীল, সদয় পথপ্রদর্শন প্রয়োগ এবং শ্রবণ ব্যতীত কিভাবে কৃষ্ণভাবনায় সঠিকভাবে অনুধ্যায়, অনুভব বা আচরণ করা যায়।

আমি উত্থাপন করছি যে, আমরা, অগ্রদূতগণ, অনিবার্য সমস্যাবলি সমাধানার্থে, একক এবং যৌথ যে সকল পদ্ধতি প্রয়োগ করছি, তা আমাদের আন্দোলনের প্রসারের সাথে স্বাভাবিকভাবেই জাগ্রত হয়, অধিক ফলপ্রসূ পদ্ধতিটি হল অন্যদের সহ ধারাক্রমে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, শ্রীমদ্ভাগবত, শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতে আপনার তাৎপর্যসমূহ উচ্চৈঃস্বরে শ্রবণ-কীর্তন করা।

কিন্তু প্রাতঃকালীন কার্যক্রমের তাৎপর্যসমেত একটি শ্লোক শ্রবণ আপনার গ্রন্থসমূহ প্রতিনিয়ত অধ্যয়নের পূর্বশর্ত চরিতার্থ করে কি?

এই নিবেদন করছি যে, সানফ্রান্সিসকোতে ঐদিন আমাদের প্রতি আপনার দৃঢ় বিবৃতি, ঐদিনের পরও অন্য অনেককেই আপনি অনুরূপ বাস্তবতায় তা বলেছিলেন, ছিল প্রাতঃকালীন কর্মসূচি ছাড়াও আপনার গ্রন্থাবলী অধ্যয়নের স্বচ্ছ অনুপ্রেরণা।

যতই আমি এই শ্রদ্ধাঞ্জলীটি লিখছি, শ্রীল প্রভুপাদ, আপনার আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের ভক্তবৃন্দের চিন্তা উদ্দীপ্ত হচ্ছে, যেহেতু আপনার দৈহিক উপস্থিতির সময়ও তারা তা করেছিল। এটি শুধুই নির্দেশ করছে যে, আপনার আন্দোলনের নেতৃত্বকারীদের শুধু নিজেরাই নয়, তাঁদের অধীনস্থ সকল ভক্তগণকে গ্রন্থ পড়তে জোর করা এখন নিরন্তর ও নিদারুণ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

এখানে একটি প্রগাড় নির্দেশিকার নমুনা রয়েছে যেটি আপনি আপনার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, নির্দেশিকাটি আন্তরিকতা ও সতর্কতার সাথে অনুসরণ করলে ব্যস্ত ভক্তিযুক্ত জীবনের আঁচে আমরা যেসকল বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হই, তা অতিশয় উপশম করতে সাহায্য করবে।

“উন্মুক্ত কর্ণ-বিবরের দ্বারা সদগুরু মহাজনের কাছ থেকে শ্রবণ করার জন্য অত্যন্ত জিজ্ঞাসু হওয়া উচিত। তা কিভাবে গ্রহণ করা উচিত? সেই চিন্ময় বাণী শ্রবণের দ্বারা গ্রহণ করা উচিত। কর্ণরন্ধ্রৈঃ শব্দটির অর্থ হচ্ছে ‘কর্ণ-বিবরের দ্বারা’। গুরুদেবের কৃপা কর্ণ ব্যতীত দেহের অন্য কোনো অঙ্গের দ্বারা লাভ করা যায় না। শ্রীগুরুদেবের বাণী অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে শ্রবণের মাধ্যমে গ্রহণ করা উচিত এবং শ্রদ্ধা সহকারে তা সম্পাদন করা উচিত। তা হলেই জীবন সার্থক হবে।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ৩.২২.৭, তাৎপর্য)

“তা শ্রবণ করা এবং ব্যাখ্যা করা পাঠ করার থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কেবল শ্রবণ এবং বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে এই শাস্ত্রজ্ঞান হৃদয়ঙ্গম করা যায়।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ১.১.৬, তাৎপর্য)

এবং শ্রবণ কতটুকু সঠিকভাবে সম্পন্ন হল তা তার প্রভাব পরিমাপ ও নির্ধারণ করে আরও চাপ প্রয়োগ করতে পারেনঃ

“ভক্তের সর্বদা সচেতন থাকা উচিত যে, তাঁর কৃষ্ণভক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বৈষ্ণবোচিত গুণাবলীও বর্ধিত হয়। ভক্তকে নির্দোষ হওয়া উচিত, কেননা ভক্তকৃত অপরাধ ভগবানের শ্রীঅঙ্গের কলঙ্কস্বরূপ। ভক্তের কর্তব্য হচ্ছে, অন্যের প্রতি তাঁর আচরণ সম্বন্ধে সর্বদা সচেতন থাকা, বিশেষ করে অন্য ভক্তদের সঙ্গে।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ৩.১৬.৫, তাৎপর্য)

এখানে বন্ধুসুল্ভ আচরণের ফলে এবং সহযোগিতাপূর্ণ অন্তরাত্মার মাধ্যমে আমাদের একে অপরের প্রতি আচরণ উন্নতিবিধানের নিগূঢ়তা নিহিত রয়েছে, যা আপাতদৃষ্টিতে অবাধ্য সমস্যার সমাধান করতে পারে।

শ্রীল প্রভুপাদ, গত দু’বছর অদ্যাবধি আমার সঙ্কল্প অনুযায়ী, আমি আপনার গ্রন্থসমূহ নীরবে পাঠের পরিবর্তে ধারাক্রমে সরবে শ্রবণ করার ফলে, আমি নূতনভাবে আধ্যাত্মিক শক্তি ও উৎসাহ পেয়েছি। যখন ভক্তগণ আমার সাথে যোগদান করে, তাঁরা বলে যে, তাঁরাও বিষয়টি উৎসাহের সাথে উপভোগ করছে।

নেতৃত্ব প্রসঙ্গে স্বায়ম্ভুব মনুর বিষয়ে আপনি লিখেছেনঃ

“এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বিষ্ণোঃ কুর্বতো ব্রুবতঃ কথাঃ। যখন  তিনি কথা বলতেন, তিনি কেবল পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং বিষ্ণুর কথাই বলতেন। মনু তাঁর সারা জীবন – ৪৩,২০,০০০×৭১ বৎসর – কৃষ্ণের কথা শ্রবণ করে, কীর্তন করে, প্রচার করে এবং ধ্যান করে কৃষ্ণভাবনায় নিযুক্ত ছিলেন। তাই তাঁর জীবন ব্যর্থ হয়নি, এবং কখনও বিস্বাদও হয়ে যায়নি।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ৩.২২.৩৫, তাৎপর্য)

শ্রীল প্রভুপাদ, আপনি এসে, আমাদের মাঝে থেকে দেখিয়েছিলেন, কিভাবে মূল্যবান সময়ের অপচয় না করা যায়, এমনকি জটিল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অবস্থায়ও, সকল ক্ষেত্রে আপনি দৃষ্টান্তসহ শিক্ষা দিয়েছিলেন, ব্যাপারগুলি কিভাবে আপনার গ্রন্থের ধারাবিবরণীভুক্ত ঘটনাবলী ও ব্যক্তিত্বের দৃষ্টান্ত উল্লেখের মাধ্যমে সর্বদা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপারগুলি পরিচালনা করতে হয়।


“ছাত্রদের ন্যায় যারা মন্দিরে অথবা গুরুকুলে ঘন্টা বাজার সাথে সাথে উঠে পড়ে, এবং তাদের প্রাতঃকৃত্য সমাপন করে তারা বেদ অধ্যয়ন করতে বসে পড়ে। তেমনই, কলিযুগের অন্ধকারে সকলেই ঘুমিয়ে আছে, কিন্তু যখন কোনও মহান আচার্যের আগমন হয়, তখন তাঁর আহ্বানেই কেবল যথার্থ তত্ত্বজ্ঞান লাভ করার জন্য সকলেই বেদপাঠ করতে শুরু করে।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ১০.২০.৯, তাৎপর্য)

আপনি প্রায়ই বলতেন যে, যদি জপের সময় আমাদের মন বিঘ্নিত হয়, আমাদের উচ্চৈঃস্বরে জপ করা উচিত। এই নীতিটি প্রয়োগ করে আমি দেখেছি যে, আমি যে শপথ করেছিলাম সরবে আপনার গ্রন্থাবলী পাঠ করে আমার মনকে সম্পূর্ণরূপে নিমগ্ন রাখব এবং এর ফলে আমি ভক্তদের পরামর্শ দেয়ার মত সহজ সমাধান পেয়েছি।

শ্রীল প্রভুপাদ, ইসকন প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশ বর্ষপূর্তির এই বিশেষ বছরে, আপনার আবির্ভাব তিথির এই পবিত্র দিনে আমি আমার প্রতিজ্ঞার পুনরারম্ভ করছি যে, আমি নিজে বা অন্যদের সহিত, জীবনের বাকি সময়টুকুতে, প্রতিদিন উচ্চৈঃস্বরে আপনার গ্রন্থাবলী, কমপক্ষে ৪১ পৃষ্ঠা পাঠ করব।

দয়া করে আমাকে শক্তি দিন যেন আমি আমার এই ব্রতপালন এবং ভগবান শ্রীচৈতন্যদেবের সংকীর্তন আন্দোলনের প্রচারে প্রতিনিয়ত আপনাকে সহযোগিতা করতে পারি।

আপনার চিরায়ত শিষ্য ও সেবক,

কেশব ভারতী দাস গোস্বামী

Advertisements