শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় পরমেশ্বর ভগবানকে পরম পবিত্র, পরম পুরুষ এবং পরম তত্ত্বরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁর মধ্যে একটুও জড় কলুষ নেই, এবং তাই যদি কারো মধ্যে অল্প একটুও জড় আসক্তি থাকে, তা হলে তিনি ভগবানের সান্নিধ্যে আসতে পারেন না। কেউ যদি জড়া প্রকৃতির অন্তত দুটি গুণ, অর্থাৎ রজোগুণ এবং তমোগুণের প্রভাব থেকে মুক্ত হন, তখনই ভগবদ্ভক্তি শুরু হয়। সেই দুটি গুণের প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার লক্ষণ হচ্ছে কাম এবং লোভ থেকে মুক্ত হওয়া। অর্থাৎ, ইন্দ্রিয়-তৃপ্তি সাধনের লোভ থেকে মুক্ত হতে হবে।

science-of-god-srila-prabhupada.jpg

সত্ত্বগুণ হচ্ছে প্রকৃতির গুণের সমতা। সব রকমের জড় প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার অর্থ হচ্ছে সত্ত্বগুণের প্রভাব থেকেও মুক্ত হওয়া। নির্জন অরণ্যে ভগবানের ধ্যান করা হচ্ছে সত্ত্বগুণের ক্রিয়া। কেউ বনে গিয়ে পারমার্থিক সিদ্ধলাভের প্রচেষ্টা করতে পারে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে তিনি প্রত্যক্ষভাবে ভগবানকে দর্শন করতে পারবেন। সব রকমের জড় আসক্তি থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়ে শুদ্ধ সত্ত্বে অধিষ্ঠিত হলেই কেবল পরমেশ্বর ভগবানের সান্নিধ্যে আসা যায়। সে জন্য, সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হচ্ছে সেই স্থানে বাস করা, যেখানে ভগবানের অপ্রাকৃত রূপের আরাধনা হয়।

ভগবানের মন্দির হচ্ছে প্রপঞ্চাতীত, কিন্তু বনে গিয়ে ধ্যান করাটা হচ্ছে সাত্ত্বিক ক্রিয়া। তাই কনিষ্ঠ অধিকারী ভক্তকে বনে গিয়ে ভগবানকে না খুঁজে ভগবানের অর্চা-বিগ্রহের অর্চনা করতে সর্বদা নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে। ভগবদ্ভক্তির শুরু হয় অর্চনা থেকে, যা বনে গিয়ে ভগবানকে খোঁজার চেয়ে অনেক উন্নত। তাই, ভগবানের শুদ্ধ ভক্ত নারদ মুনি, প্রহ্লাদ মহারাজ প্রমুখ মহান ভক্তদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিরন্তর ভগবানের মহিমা কীর্তন করেন। ভগবানের এই মহিমা প্রচার হচ্ছে সব রকমের জড় গুণের অতীত চিন্ময় ক্রিয়া।

Advertisements