পরিব্রাজকাচার্যদের কর্তব্য হচ্ছে বন, অরণ্য, পাহাড়, পর্বত, ঙ্গর, গ্রাম ইত্যাদির মধ্য দিয়ে একাকী ভ্রমণ করে ভগবানের সৃষ্টির অভিজ্ঞতা অর্জন করা, যাতে ভগবানের প্রতি বিশ্বাস এবং মনের বল অর্জন করা যায় এবং সেই সমস্ত স্থানের অধিবাসীদের ভগবত্ত্বজ্ঞান দান করা যায়। সন্ন্যাসীর কর্তব্য হচ্ছে নির্ভয়ে এই সমস্ত বিপদের ঝুঁকি গ্রহণ করা, এবং বর্তমান যুগের আদর্শ সন্ন্যাসী হচ্ছেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, যিনি মধ্য ভারতের ঝাড়িখণ্ড জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সেখানকার বাঘ, ভাল্লুক, সাপ, হরিণ, হাতি এবং বন্য জন্তুকে ভগবৎ-প্রেম দান করেছিলেন।

Lord-Chaitanya-causes-the-forest-animals-dance-in-ecstacy-adn-chant-Hari-Krishna-570x1000.jpg

এই কলিযুগে সাধারণ মানুষের সন্ন্যাস গ্রহণ করা নিষেধ। যে মানুষ লোক দেখাবার জন্য কেবল বেশ পরিবর্তন করে, সে আদর্শ সন্ন্যাসী থেকে ভিন্ন। আদর্শ সন্ন্যাসী হচ্ছেন তিনি যিনি সব রকমের জড় আদান-প্রদান সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করার প্রতিজ্ঞা করে তাঁর জীবন সর্বতোভাবে ভগবানের সেবায় উৎসর্গ করেন। বেশ পরিবর্তন কেবলমাত্র একটি বাহ্যিক রীতি মাত্র।

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সন্ন্যাস নেওয়ার পর শাস্ত্রের নির্দেশ অনুসারে সন্ন্যাসের নাম গ্রহণ করেননি। এই কলিযুগে তথাকথিত সন্ন্যাসীদেরও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁদের পূর্বের নাম পরিবর্তন করা উচিত নয়। এই যুগে পরমেশ্বর ভগবানের দিব্য মহিমা শ্রবণ এবং কীর্তনরূপ ভগবদ্ভক্তির অনুশীলনই হচ্ছে একমাত্র অনুমোদিত পন্থা, এবং যিনি সংসার ত্যাগ করার প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছেন, তাঁকে নারদ মুনি অথবা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মতো পরিব্রাজকাচার্যদের অনুকরণ করার প্রয়োজন নেই; পক্ষান্তরে, তিনি কোনও পবিত্র স্থানে স্থিত হয়ে তাঁর সমস্ত শক্তি এবং সময় বৃন্দাবনের ষড় গোস্বামীদের মতো মহান আচার্যদের লেখা পবিত্র শাস্ত্রগ্রন্থ শ্রবণ এবং অধ্যয়নে নিয়োজিত করতে পারেন।

Advertisements