• শ্রীনারদমুনি পূর্বকল্পে বেদজ্ঞ ঋষিদের পরিচর্যারত এক দাসীর পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
  • বর্ষাকালের চারটি মাসে তাঁরা যখন একত্রে বসবাস করছিলেন, তখন তিনি তাঁদের সেবায় যুক্ত ছিলেন। যদিও তাঁরা ছিলেন সমদর্শী, সেই বেদজ্ঞ মুনিরা তাঁদের অহৈতুকী করুণার প্রভাবে তাঁকে আশীর্বাদ করেছিলেন।
  • যদিও তিনি ছিলেন একটি বালক মাত্র, কিন্তু তবুও তিনি ছিলেন সংযত এবং সব রকম শিশুসুলভ খেলাধুলার প্রতি উদাসীন। তদুপরি, তিনি দুরন্ত ছিলেন না এবং তিনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা বলতেন না।
  • একবার কেবল অনুমতি গ্রহণপূর্বক তিনি তাঁদের উচ্ছিষ্ট গ্রহণ করেছিলেন, এবং তার ফলে তাঁর সমস্ত পাপ তৎক্ষণাৎ বিদূরিত হয়েছিল। তার ফলে তাঁর হৃদয় নির্মল হয় এবং সেই সময় সেই পরমার্থবাদীদের আচরণের প্রতি তিনি আকৃষ্ট হন।

 

young-narada-muni-with-sages.jpg

 

  • সেখানে সেই ঋষিরা প্রতিদিন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চিত্তাকর্ষক কার্যকলাপের বর্ণনা করতেন এবং তাঁদের অনুগ্রহে তিনি তা শ্রবণ করতেন। এইভাবে নিবিষ্ট চিত্তে তা শ্রবণ করার ফলে প্রতি পদে পরমেশ্বর ভগবানের মহিমা শ্রবণে তাঁর রুচি বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরমেশ্বর ভগবানের প্রতি রুচি লাভ করা মাত্রই ভগবানের মহিমা শ্রবণে তিনি স্থির মতিসম্পন্ন হয়েছিলেন। সেই রুচি যত বৃদ্ধি পেতে থাকে, ততই তিনি বুঝতে পারলেন যে, “আমাদের অজ্ঞানতার ফলে আমাদের এই স্থূল এবং সূক্ষ্ম শরীর গ্রহণ করতে হয়েছে, কেন না ভগবান এবং জীব উভয়ই প্রপঞ্চাতীত।”
  • এইভাবে বর্ষা এবনফ শরৎ – এই দুটি ঋতুতে সেই মহান ঋষিদের দ্বারা কীর্তিত পরমেশ্বর ভগবান শ্রীহরির কীর্তন শোনার সৌভাগ্য শ্রীনারদ মুনির হয়েছিল। ভগবদ্ভক্তির প্রতি তাঁর প্রবৃত্তি যখন প্রবাহিত হতে শুরু করল, তখন রজ এবং তমোগুণের আবরণ বিদূরিত হয়ে গেল।

 

shree-narada-bhakti-sutra-image

 

  • নারদ মুনির ব্যবহার ছিল নম্র এবং ঋষিদের সেবা করার ফলে তাঁর সমস্ত পাপ মোচন হয়েছিল। তাঁর হৃদয়ে তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ছিল। তিনি তাঁর সমস্ত ইন্দ্রিয়গুলিকে সংযত করেছিলেন, এবং তাঁর দেহ ও মনের দ্বারা তিনি অবিচলিতভাবে তাঁদের আজ্ঞা পালন করেছিলেন।
  • দীনবৎসল সেই ভক্তিবেদান্তরা যখন চলে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁরা স্বয়ং ভগবান প্রদত্ত পরম গুহ্যজ্ঞান নারদ মুনিকে দান করেছিলেন।
  • সেই গুহ্যতম জ্ঞানের প্রভাবে তিনি সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং ধ্বংসকর্তা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শক্তির প্রভাব স্পষ্টভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পেরেছিলেন। তা জানার ফলে সহজেই ভগবানের কাছে ফিরে যাওয়া যায় এবং তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করা যায়।
  • পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নারদ মুনিকে বেদগুহ্য জ্ঞান দান করেন, এবং তারপর অণিমা, মহিমা, লঘিমা আদি দিব্য ঐশ্বর্য দান করেন এবং সেগুলির প্রতি তাঁর অনাসক্তি দর্শন করে তিনি তাঁকে প্রেম প্রদান করেছিলেন।

 

জয় শ্রী নারদ মুনি!!

Advertisements