“ভগবানের প্রেমময়ী  সেবায় যুক্ত হওয়ার জন্য যিনি জাগতিক কর্তব্য পরিত্যাগ করেছেন, অপক্ব অবস্থায় যদি কোন কারণে  তাঁর পতনও হয়, তবুও তাঁর বিফল হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না। পক্ষান্তরে, অভক্ত যদি সর্বতোভাবে নৈমিত্তিক ধর্ম-অনুষ্ঠানে  যুক্ত হয়, তবুও তাতে তার কোন লাভ হয় না। ” (শ্রীমদ্ভাগবত , ১.৫.১৭ )

মানুষের অসংখ্য কর্তব্য রয়েছে। মানুষ তার পিতামাতা, আত্মীয়স্বজন, সমাজ, দেশ, বিভিন্ন জীব বা দেবতাদের প্রতিই কেবল নয়, মহান দার্শনিক, কবি, বৈজ্ঞানিক প্রভৃতিদের প্রতিও কর্তব্যের বন্ধনে আবদ্ধ। শাস্ত্রে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কেউ যখন ভগবানের সেবায় যুক্ত হন, তখন তিনি এই সমস্ত কর্তব্য থেকে মুক্ত হন। তাই কেউ যদি তা করেন এবং ভগবদ্ভক্তির অনুশীলনে সফল হন, তা হলে খুবই ভাল হয়। কিন্তু কখনো কখনো এমনও হতে পারে যে সাময়িক ভাবপ্রবণতার বশবর্তী হয়ে কেউ ভগবানের সেবায় যুক্ত হয়ে ভগবানের শরণাগত হল এবং তারপর অসৎ সঙ্গের প্রভাবে সে ভক্তিমার্গ থেকে অধঃপতিত হল। ইতিহাসে সে রকম অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে।

bharata_death_large.jpg

একটি হরিণ শিশুর প্রতি আসক্ত হওয়ার ফলে মহারাজ ভরতকে হরিণ-শরীরে জন্মগ্রহণ করতে হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর সময় তিনি সেই হরিণটির কথা চিন্তা করতে করতে দেহত্যাগ করেন। তার ফলে পরবর্তী জীবনে তিনি একটি হরিণ শরীর প্রাপ্ত হন। তবে তিনি তাঁর পূর্বজন্মের কথা ভুলে যাননি। তেমনই, দেবাদিদেব মহাদেবের চরণে অপরাধ করার ফলে মহারাজ চিত্রকেতুও অধঃপতিত হয়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও শাস্ত্রে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ভগবানের চরণারবিন্দে শরণাগত হওয়ার পর যদি কারো পতনও হয়, তবুও তিনি কখনই পরমেশ্বর ভগবানের শ্রীপাদপদ্মের কথা বিস্মৃত হবেন না।

একবার ভগবানের সেবায় যুক্ত হলে সর্ব অবস্থাতেই সেই সেবা চলতে থাকে। ভগবদ্গীতায় (২.৪০) বলা হয়েছে যে, “ভক্তিযোগের অনুশীলন কখনো ব্যর্থ হয়না, তার কখনও ক্ষয়ও নেই, তার স্বল্প অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠাতাকে সংসাররূপ মহাভয় থেকে পরিত্রাণ করে।” 

ইতিহাসে এর বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। এর একটি হচ্ছে অজামিল। অজামিল তাঁর প্রথম জীবনে ভক্ত ছিলেন, কিন্তু যৌবনে তাঁর পতন হয়। কিন্তু তবুও অন্তিম সময়ে ভগবান তাঁকে রক্ষা করেন।

Advertisements