আমরা একাদশী পালন করি সূর্যোদয় থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। রাত ১২ টা বা মধ্যরাত্রির হিসাব পাশ্চাত্য জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব অনুযায়ী; কিন্তু বৈদিক জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুযায়ী সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত থেকে হিসাব করতে হয়। সাধারণত তা সূর্যোদয় থেকেই হিসাব করা হয়। আমাদের হিসাবটি এরকমঃ একাদশী তিথির মধ্যে যদি সূর্যোদয় পড়ে, তাহলে ঐদিনই একাদশী পালন করতে হবে। আর যদি সূর্যোদয়ের পর (এক মিনিট পর হলেও) একাদশী তিথি শুরু হয় তাহলে তা পরের দিন পালন করতে হয়। আমাদের সকল বৈদিক উৎসবই এভাবে পালিত হয়ে আসছে। এটার মানে আমাদেরকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে একাদশী তিথির (নির্দিষ্ট সময় ব্যবধান) মধ্যে যেন সূর্যোদয় পড়ে। আমরা পাশ্চাত্য রীতি অনুসরণ করি না। তারা বড়দিন ২৫ ডিসেম্বর – নির্দিষ্ট দিনে পালন করে কিন্তু আমাদের জন্মাষ্টমীর জন্য ঐরকম নির্দিষ্ট কোনো দিন নেই।
Tholi-Ekadasi-Telugu-Tholi-Ekadasi-Festival.jpg
 
তিথির সূর্যোদয় নিয়মঃ
 
১। যদি একাদশী তিথিটি সূর্যোদয়ের পর শুরু হয়ে পরের দিন সূর্যোদয়ের পূর্বেই শেষ হয়ে যায় তাহলে তা পরের দিন পালন করতে হবে। একে উন্মীলনী মহাদ্বাদশী বলে।
 
২। যদি কোনো তিথিতে দুটি সূর্যোদয় পড়ে তাহলে তা আগের দিন পালন করতে হয় (একাদশী, অমাবস্যা, পূর্ণিমা ব্যতীত)।
 
৩। যদি একাদশী তিথি ব্রাহ্মমূহুর্তে (সূর্যোদয়ের ১ ঘন্টা ৩৬ মিনিট পূর্বে) তাহলে তা শুদ্ধ একাদশী। যদি তা সূর্যোদয়ের পরে শুরু হয়, তাহলে তা অপবিত্র একাদশী, এবং তা পরের দিন তথা দ্বাদশী বা মহাদ্বাদশীতে পালন করতে হয়।
 
৪। যদি দ্বাদশী সূর্যোদয়ের পর শুরু হয়ে পরের দিন (ত্রয়োদশী) সূর্যোদয়ের পূর্বে শেষ হয়ে যায়, তাহলে তাকে ত্রিস্পর্শা মহাদ্বাদশী বলা হয়।
 
৫। যদি দ্বাদশীতে পরপর দুটি সূর্যোদয় পড়ে, তাহলে প্রথম দ্বাদশীতে উপবাস পালন করতে হয়। একে ব্যঞ্জুলী মহাদ্বাদশী বলে।
 
৬। যদি একাদশীর পরের অমাবস্যা বা পূর্ণিমাতে পরপর দুটি সূর্যোদয় পড়ে, তাহলে একে পক্ষ-বর্ধিনী মহাদ্বাদশী বলা হয়। (যেমন- পুরুষোত্তম মাসের পরমা একাদশী)
 
(শ্রীল প্রভুপাদের মধুদ্বীশ প্রভুকে পত্র, ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯, ইংল্যান্ড)
 
বিস্তারিত জানতে শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের নবদ্বীপ পঞ্জিকার মুখবন্ধ দেখুন।
 
হরে কৃষ্ণ!
Advertisements