ব্যাসদেব-তনয় শ্রীল শুকদেব গোস্বামী হচ্ছেন সমস্ত আত্মজ্ঞানীদের শিরোমণি, এবং তিনি শ্রীমদ্ভাগবতকে যথার্থ তত্ত্বজ্ঞানরূপে বিবেচনা করে তাঁর পিতা শ্রীল ব্যাসদেবের কাছ থেকে এই জ্ঞান লাভ করেছিলেন। শ্রীল ব্যাসদেব হচ্ছেন একজন মহাজন, এবং শ্রীমদ্ভাগবতের বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ তত্ত্বজ্ঞান বলে বিচার করে তিনি প্রথমে তা তাঁর মহান পুত্র শ্রীল শুকদেব গোস্বামীকে দান করেছিলেন।

শ্রীমদ্ভাগবতকে দুধের সার-স্বরূপ ননীর সঙ্গে তুলনা করা হয়। বৈদিক শাস্ত্র হচ্ছে দুধের সমুদ্রের মতো। ননী বা মাখন হচ্ছে দুধের সব চাইতে উপাদেয় সারাতিসার। আর শ্রীমদ্ভাগবতও হচ্ছে তেমনই, কেননা তাতে পরমেশ্বর ভগবান এবং তাঁর শুদ্ধ ভক্তের অতি উপাদেয় এবং শিক্ষাপ্রদ প্রামাণিক সমস্ত লীলাবিলাসের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।

শ্রীল ব্যাসদেব শ্রীমদ্ভাগবতের এই জ্ঞান দান করেছিলেন শ্রীল শুকদেব গোস্বামীকে এবং শুকদেব গোস্বামীর কাছ থেকে তা লাভ করেছিলেন শ্রীল সূত গোস্বামী।

img040.jpg

মহারাজ পরীক্ষিৎ যখন জানতে পেরেছিলেন যে, তাঁর মৃত্যু আসন্ন, তাই তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁর রাজ্য এবং পরিবার-পরিজন পরিত্যাগ করে গঙ্গার তীরে প্রায়োপবেশনে উপবিষ্ট হয়েছিলেন। সেই মহান সম্রাটের মৃত্যু আসন্ন জেনে সমস্ত মুনি-ঋষি-যোগী আদি সমস্ত মহাত্মারা সেখানে সমবেত হয়েছিলেন। অন্তিম সময়ে তাঁর কর্তব্য সম্বন্ধে তাঁকে তাঁরা নানা উপদেশ দিয়েছিলেন, অবশেষে তিনি স্থির করেছিলেন যে, তিনি শ্রীল শুকদেব গোস্বামীর কাছে কৃষ্ণকথা শ্রবণ করবেন। তাই, শ্রীল শুকদেব গোস্বামী তাঁকে শ্রীমদ্ভাগবত শোনান।

মৃত্যুর শোচনীয় অবস্থার সময় অবশ্যই গোবিন্দের নাম উচ্চারণ করতে হবে। সেটিই হচ্ছে সমস্ত মহান পরমার্থবাদীদের উপদেশ। সমস্ত পারমার্থিক কার্যকলাপের সেটিই হচ্ছে সারাতিসার। এই নিত্য সত্যকে অনুসরণ করে মহারাজ পরীক্ষিৎ শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ করেছিলেন, এবং তা কীর্তন করেছিলেন শ্রীল শুকদেব গোস্বামী। এই শ্রীমদ্ভাগবতের শ্রোতা ও বক্তা উভয়েরই উদ্ধারের মাধ্যম ছিল এক।

Advertisements