“নটবৎ অভিনয়পরায়ণ পরমেশ্বর ভগবানের নাম, রূপ এবং লীলাবিলাসের অপ্রাকৃত স্বভাব বিকৃত মনোভাবাপন্ন মূর্খ মানুষেরা জানতে পারে না। তারা তাদের জল্পনা-কল্পনায় অথবা বাক্যের মাধ্যমে তা ব্যক্ত করতে পারে না। ” (শ্রীমদ্ভাগবত, ১.৩.৩৭)

70635651388d0bb251d1e7ebe9b8585b

পরম সত্য পরমেশ্বর ভগবানের দিব্য প্রকৃতির বর্ণনা কেউই যথাযথভাবে করতে পারে না। তাই তাঁকে বলা হয় ‘অবাঙ্মনসগোচর’। কিন্তু তবুও বিকৃত মনোভাবাপন্ন অল্পজ্ঞ কিছু মানুষ রয়েছে, যারা তাদের অপূর্ণ মনের জল্পনা-কল্পনার দ্বারা এবং তাঁর চিন্ময় কার্যকলাপ সম্বন্ধে তাদের ভ্রান্ত বর্ণনার দ্বারা তাঁকে জানতে চায়। সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর কার্যকলাপ, তাঁর আবির্ভাব এবং তিরোভাব, তাঁর নাম, তাঁর রূপ, তাঁর পরিকর, তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর সাথে সম্পর্কিত সবকিছুই রহস্যজনক বলে মনে হয়।

দু’রকমের জড়বাদী রয়েছে; যথা – সকাম কর্মী এবং জ্ঞানী দার্শনিক। সকাম কর্মীদের পরম সত্য সম্বন্ধে কোন ধারণাই নেই, আর মনোধর্মী জ্ঞানীরা সকাম কর্মে ব্যর্থ হয়ে তাদের মনোধর্মপ্রসূত জল্পনা-কল্পনার মাধ্যমে পরমতত্ত্বকে জানবার চেষ্টা করে। এই উভয় শ্রেণীর লোকের কাছেই পরমতত্ত্ব রহস্যাবৃত, ঠিক যেমন একটি শিশুর কাছে যাদুকরের ভেলকিবাজি রহস্যাবৃত। অভক্তরা সকাম কর্মে এবং জল্পনা-কল্পনায় যতই পারদর্শী হোক না কেন, পরমেশ্বর ভগবানের মায়ার দ্বারা মোহিত হয়ে তারা সর্বদাই অজ্ঞানের অন্ধকারে আচ্ছন্ন। তাদের সীমিত জ্ঞান নিয়ে তারা অপ্রাকৃত জগতের রহস্যাবৃত প্রদেশে প্রবেশ করতে পারে না। মনোধর্মী জ্ঞানীরা অবশ্য স্থূল জড়বাদী বা সকাম কর্মীদের থেকে একটু উন্নত, কিন্তু যেহেতু তারা মায়ার দ্বারা আচ্ছন্ন, সেহেতু তারা মনে করে যে, যারই রূপ আছে, নাম আছে এবং কার্যকলাপ রয়েছে, তা নিশ্চয়ই জড়া প্রকৃতি থেকে উৎপন্ন হয়েছে। তাদের কাছে পরমেশ্বর ভগবান নিরাকার, নামহীন এবং কর্মহীন। আর যেহেতু এই ধরনের মনোধর্মীরা পরমেশ্বর ভগবানের অপ্রাকৃত নাম এবং রূপকে জড় নাম এবং রূপের সমপর্যায়ভুক্ত বলে মনে করে, তাই তারা এক-একটি মহামূর্খ ছাড়া আর কিছু নয়। তাদের সেই স্বল্প জ্ঞানের দ্বারা তারা কখনই পরমেশ্বর ভগবানের যথার্থ প্রকৃতিতে প্রবেশ করতে পারে না।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বর্ণনা করা হয়েছে যে, পরমেশ্বর ভগবান সর্বদাই তাঁর দিব্য প্রকৃতিতে বিরাজ করেন, এমন কি যখন তিনি এই জগতে অবতরণ করেন, তখনও তিনি তাঁর দিব্য প্রকৃতিতেই অধিষ্ঠিত থাকেন। কিন্তু মূর্খ মানুষেরা মনে করে যে, পরমেশ্বর ভগবান এই পৃথিবীর আর পাঁচ জন মহৎ মানুষের মতো, এবং এইভাবে তারা ভগবানের মায়াশক্তির দ্বারা মোহাচ্ছন্ন হয়।

Advertisements