“যাঁরা দুরন্তবীর্য রথচক্রধারী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীপাদপদ্মে অনুকূলভাবে অহৈতুকী এবং অপ্রতিহতা সেবাপরায়ণ, তাঁরাই কেবল জগতের সৃষ্টিকর্তার পূর্ণ মহিমা, শক্তি এবং দিব্য ভাব সম্বন্ধে অবগত হতে পারেন।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ১.৩.৩৮)

e6b773c33b08c7ed0bb782d293fcacab.jpg

শুদ্ধ ভক্তরাই কেবল পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অপ্রাকৃত নাম, রূপ এবং কার্যকলাপ সম্বন্ধে অবগত হতে পারেন। কেননা তাঁরা সম্পূর্নরূপে সকাম কর্মের ফল এবং মনোধর্মপ্রসূত জ্ঞানের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়েছেন। শুদ্ধ ভক্তরা পরমেশ্বর ভগবানের প্রতি তাঁদের অনন্য ভক্তির বিনিময়ে কোন রকম ব্যক্তিগত লাভের আকাঙ্ক্ষা করেন না। তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সব রকম আকাঙ্ক্ষা রহিত হয়ে নিরন্তর ভগবানের সেবা করেন। ভগবানের সৃষ্টিতে সকলেই প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে ভগবানের সেবা করছেন। ভগবানের এই আইন থেকে কেউই রেহাই পায় না। যারা ভগবানের মায়া-শক্তির প্রভাবে বাধ্য হয়ে পরোক্ষভাবে ভগবানের সেবা করছেন, তাদের সেই সেবা প্রতিকূল-ভাবাপন্ন। কিন্তু যাঁরা ভগবানের প্রিয় প্রতিনিধির আনুগত্যে সরাসরিভাবে ভগবানের সেবা করছেন, তাঁদের সেই সেবা অনুকূল ভাবযুক্ত। এই ধরনের অনুকূল সেবকেরা হচ্ছেন ভগবানের ভক্ত, এবং ভগবানের কৃপার প্রভাবে তাঁরা রহস্যাবৃত ভগবদ্ধামে প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু মনোধর্মীরা সর্বদাই অজ্ঞান-অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকেন।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান নিজেই বলেছেন যে, তিনি তাঁর শুদ্ধ ভক্তদের এগিয়ে যেতে পথ প্রদর্শন করেন, কেননা তাঁরা স্বতঃস্ফূর্ত প্রেমে ভগবানের সেবায় যুক্ত। সেটিই হচ্ছে ভগবদ্ধামে প্রবেশ করার একমাত্র উপায়। সকাম কর্ম এবং মনোধর্মপ্রসূত জল্পনা-কল্পনা এখানে প্রবেশের যোগ্যতা নয়।

Advertisements