এখানে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে অন্যান্য অবতারদের পার্থক্য নিরূপিত হয়েছে। তাঁকে অবতারের মধ্যে গণনা করা হয়, কেননা তাঁর অহৈতুকী কৃপার প্রভাবে ভগবান তাঁর চিন্ময় ধাম থেকে এই জগতে অবতরণ করেন। ভগবানের সমস্ত অবতার, এমনকি ভগবান নিজেও এই জড় জগতের বিভিন্ন গ্রহে বিভিন্নরূপে অবতরণ করেন কোন বিশেষ উদ্দেশ্য সাধন করার জন্য। কখনও তিনি স্বয়ং অবতরণ করেন, আবার কখনো বা বিভিন্ন অংশ অথবা অংশের অংশ বা কলা অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাঁর শক্তির দ্বারা আবিষ্ট শক্ত্যাবেশ অবতার কোন বিশেষ উদ্দেশ্য সাধন করার জন্য এই জগতে অবতরণ করেন। ভগবান ষড়ৈশ্বর্যপূর্ণ – তাঁর মধ্যে সমস্ত ঐশ্বর্য, সমস্ত বীর্য, সমস্ত যশ, সমস্ত শ্রী, সমস্ত জ্ঞান এবং সমস্ত বৈরাগ্য রয়েছে। সেগুলি যখন আংশিকভাবে তাঁর অংশ অথবা কলার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, তখন বুঝতে হবে যে, তাঁর বিভিন্ন শক্তির এই প্রকাশ কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য সাধন করার জন্য।

madhava.jpg

দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, পরশুরাম একুশবার পৃথিবীকে ক্ষত্রিয়শূণ্য করেন এবং নৃসিংহদেব দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুকে সংহার করে অস্বাভাবিক ঐশ্বর্য প্রদর্শন করেছিলেন।ভগবানের শক্ত্যাবেশ অবতার নারদ ও অংশ অবতার বরাহ এবং পরোক্ষভাবে শক্ত্যাবিষ্ট অবতার বুদ্ধ জনসাধারণের মনে বিশ্বাস উৎপাদন করেছিলেন। শ্রীরামচন্দ্র ও ধন্বন্তরি তাঁর যশ প্রকাশ করেছিলেন এবং বামন তাঁর সৌন্দর্য প্রকাশ করেছেন। দত্তাত্রেয়, মৎস্য, কুমার এবং কপিল তাঁর অপ্রাকৃত জ্ঞান প্রদর্শন করেছেন। নর এবং নারায়ণ ঋষি তাঁর বৈরাগ্য প্রদর্শন করেছেন। এইভাবে ভগবানের বিভিন্ন অবতারেরা প্রত্যক্ষভাবে অথবা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন রূপ প্রকাশ করেছেন; কিন্তু পরম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ ভগবানের পূর্ণ রূপ প্রদর্শন করেন। এইভাবে প্রতিপন্ন হয় যে, তিনিই সমস্ত অবতারের অবতারী।

শ্রীল জীব গোস্বামীর বর্ণনা অনুসারে, মহাজনদের মতে শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন সমস্ত অবতারের অবতারী। এমন নয় যে, শ্রীকৃষ্ণের কোনও অবতারী রয়েছে। পরমতত্ত্বের লক্ষণগুলি পূর্ণরূপে শ্রীকৃষ্ণে রয়েছে, এবং ভগবদ্গীতায় ভগবান নিজেই ঘোষণা করে গেছেন যে, তাঁর থেকে বড় অথবা তাঁর সমান আর কোনও সত্য নেই। (শ্রীমদ্ভাগবত, ১.৩.২৮)

Advertisements