ভগবৎ-বিদ্বেষী রাক্ষস এবং দৈত্যরা জড়-বিজ্ঞানের প্রগতির মাধ্যমে প্রভূত জাগতিক উন্নতি সাধন করে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ হয় এবং পরমেশ্বর ভগবানের আধিপত্যকে অবজ্ঞা করে। জড় উপায়ের দ্বারা অন্যান্য গ্রহে যাওয়ার প্রচেষ্টা প্রতিষ্ঠিত নিয়মের বিরুদ্ধাচরণ। বিভিন্ন গ্রহের পৃথক পৃথক অবস্থা রয়েছে এবং ভগবানের নিয়মানুসারে বিভিন্ন বর্ণের জীব বিভিন্ন প্রয়োজন সম্পাদন করার জন্য সেখানে রয়েছে। কিন্তু, অতি ক্ষুদ্র জড়-জাগতিক সাফল্যের গর্বে গর্বিত হয়ে ভগবদ্বিমুখ জড়বাদীরা কখনও কখনও ভগবানের অস্তিত্ব অস্বীকার করে। রাবণ ছিল তাদের একজন, এবং সে যোগ্যতার কথা বিবেচনা না করে সকলের স্বর্গে যাওয়ার জন্য জড় উপায়ে একটি সিঁড়ি তৈরি করতে চেয়েছিল। সে সরাসরি স্বর্গে যাওয়ার এমন একটি সিঁড়ি তৈরি করতে চেয়েছিল, যাতে মানুষ পুণ্যকর্ম না করেই স্বর্গে চলে যেতে পারে।

1606393_355500511281538_264514315480333260_o.jpg

সে ভগবানের নিয়মের বিরুদ্ধাচরণ করে আরও অনেক কিছু করতে চেয়েছিল। সে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের ঈশ্বরত্ব অস্বীকার করেছিল এবং তাঁর পত্নী সীতাদেবীকে অপহরণ করেছিল। রামচন্দ্র দেবতাদের প্রার্থনা অনুসারে এই রাক্ষসকে দণ্ডদান করার জন্য এই ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তিনি রাবণের এই বিরুদ্ধাচরণের উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছিলেন।

rama-bridge1.jpg

শ্রীরামচন্দ্র যেহেতু ছিলেন পরমেশ্বর ভগবান, তাই তিনি নানা রকম অলৌকিক কার্যকলাপ প্রদর্শন করেছিলেন, যা রাবণের মতো জড় বিষয়ে উন্নীত রাক্ষসেরা কখনও সম্পাদন করতে পারে না। শ্রীরামচন্দ্র ভাসমান শিলার দ্বারা ভারত মহাসাগরের বুকে এক সেতু নির্মাণ করেছিলেন। আধুনিক বৈজ্ঞানিকেরা বস্তুর ভারহীনতা সম্বন্ধে নানা গবেষণা করছে, কিন্তু কখনও কোন অবস্থাতেই ভারহীনতা সম্ভব নয়। কিন্তু ভগবান তাঁর সৃষ্টির সর্বত্র বিরাট বিরাট সমস্ত গ্রহগুলিকে ভারহীন করে মহাশূণ্যে ভাসিয়ে রেখেছেন। তিনি এই পৃথিবীতেও পাথরকে ভারহীন করে উদ্বেলিত মহাসাগরের বুকে স্তম্ভহীন প্রস্তরসেতু নির্মাণ করেছিলেন। সেটিই হচ্ছে ভগবানের শক্তির প্রকাশ।

Advertisements