১। কুমার অবতার: ব্রহ্মার চতুঃসন – সনক, সনৎকুমার, সানন্দ, সনাতন।

২। বরাহ অবতার: এই পৃথিবী যখন রসাতলে পতিত হয়েছিল, তখন এই বিশ্বের মঙ্গলের জন্য পৃথিবীকে উদ্ধার করতে ইচ্ছুক হয়ে সমস্ত যজ্ঞের পরম ভোক্তা যজ্ঞেশ্বর বিষ্ণু দ্বিতীয় অবতারে বরাহ রূপ ধারণ করেছিলেন।

৩। নারদ অবতার: ঋষিকল্পে পরমেশ্বর ভগবান দেবর্ষি নারদরূপে তাঁর তৃতীয় শক্ত্যাবেশ অবতারে আবির্ভূত হন। বেদের যে সমস্ত বর্ণনা ভগবদ্ভক্তি এবং নিষ্কাম কর্ম সম্বন্ধে জীবকে অনুপ্রাণিত করে, তিনি সেগুলি সংকলন করেছিলেন।

plate-16.jpg

৪। নর-নারায়ণ অবতার: ধর্মরাজ ঋষভদেবের যমজ পুত্ররূপে আবির্ভূত হয়ে ইন্দ্রিয়-সংযমের আদর্শ প্রদর্শন করার জন্য কঠোর তপস্যা করেছিলেন।

৫। কপিলদেব অবতার: ঋষিশ্রেষ্ঠ শ্রীকপিলদেব আসুরি নামক ব্রাহ্মণকে সৃষ্টির উপাদানসমূহ বিশ্লেষণ করে সাংখ্য দর্শন প্রদান করেন।

৬। দত্তাত্রেয় অবতার: ঋষি অত্রি ও অনসূয়ার পুত্ররূপে অবতীর্ণ হয়ে অলর্ক, প্রহ্লাদ, যদু, হৈহয় এবং আরও অনেককে পারমার্থিক জ্ঞান প্রদান করেছিলেন।

৭। যজ্ঞ অবতার: প্রজাপতি রুচি ও তাঁর পত্নী আকুতির পুত্ররূপে স্বায়ম্ভুব মন্বন্তরে এই ব্রহ্মাণ্ড পালন করেছিলেন এবং তাঁর পুত্র যাম আদি দেবতারা তাঁকে সেই কার্যে সাহায্য করেছিলেন।

৮। ঋষভ অবতার: মহারাজ নাভী ও তাঁর পত্নী মেরুদেবীর পুত্ররূপে অবতীর্ণ হয়ে পূর্ণসিদ্ধি লাভের পন্থা প্রদর্শন করেছিলেন।

৯। পৃথু অবতার: পিতা বেনের অনাচারের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে পুত্ররূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

১০। মৎস্য অবতার: চাক্ষুষ মন্বন্তরে যখন মহাপ্লাবন হয়েছিল, তখন মহারাজ সত্যব্রতকে কিছু অদ্ভুত কার্যকলাপ প্রদর্শন করার জন্য ভগবান মৎস্যরূপ ধারণ করে বৈবস্বত মনুকে একটি নৌকার উপর রেকে রক্ষা করেছিলেন।

vishnu-dashavatar.jpg

১১। কূর্ম অবতার: একাদশ অবতারে ভগবান কূর্মরূপ পরিগ্রহ করে তাঁর পৃষ্ঠে মন্দরাচল পর্বতকে ধারণ করেছিলেন, যা সমুদ্র-মন্থনকারী দেবতা এবং দানবেরা মন্থন-দণ্ডরূপে ব্যবহার করেছিল।

১২। ধন্বন্তরি অবতার: দ্বাদশ অবতারে ভগবান ধন্বন্তরিরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

১৩। মোহিনী অবতার: ত্রয়োদশ অবতারে ভগবান মোহিনীরূপে অসুরদের সম্মোহিত করে দেবতাদের অমৃত পান করতে দিয়েছিলেন।

১৪। নৃসিংহ অবতার: চতুর্দশ অবতারে ভগবান নৃসিংহরূপে আবির্ভূত হয়ে তাঁর নখের দ্বারা দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুর সুদৃঢ় শরীর বিদীর্ণ করেছিলেন।

১৫। বামন অবতার: পঞ্চদশ অবতারে ভগবান বামনরূপ ধারণ করে দৈত্যরাজ বলির যজ্ঞস্থানে গমন করেছিলেন। যদিও তিনি দেবতাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ত্রিভুবন অধিকার করতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তবুও তিনি কেবল ত্রিপাদ ভূমি ভিক্ষা করেছিলেন।

১৬। ভৃগুপতি(পরশুরাম) অবতার: ক্ষত্রিয় রাজাদের দেব-দ্বিজ বিদ্বেষী দেখে তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়ে পৃথিবীকে একুশবার ক্ষত্রিয়শূণ্য করেছিলেন।

১৭। ব্যাসদেব অবতার: পরাশর মুনির পত্নী সত্যবতীর গর্ভে আবির্ভূত হয়ে মানবকুলের ভিতর বুদ্ধিমত্তার স্বল্পতা দর্শন করে তিনি তাদের কল্যাণের জন্য বেদবৃক্ষের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা  বিস্তার করেছিলেন।

১৮। রাম অবতার: রাজা দশরথ ও রাণী কৌশল্যার পুত্ররূপে আবির্ভূত হয়ে রাবনবধ সহ বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করেছিলেন।

১৯। বলরাম অবতার: ঊনবিংশতি অবতরণে ভগবান শ্রীবলরাম বৃষ্ণিকুলে (যদুবংশে) আবির্ভূত হয়ে পৃথিবীর ভার গ্রহণ করেছিলেন।

২০। কৃষ্ণ: বিংশতি অবতরণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বৃষ্ণিকুলে (যদুবংশে) আবির্ভূত হয়ে পৃথিবীর ভার গ্রহণ করেছিলেন।

২১। বুদ্ধ অবতার: কলিযুগের প্রারম্ভে ভগবদবিদ্বেষী নাস্তিকদের সম্মোহিত করার জন্য বুদ্ধদেব নামে গয়া প্রদেশে অঞ্জনার পুত্ররূপে আবির্ভূত হন।

২২। কল্কি অবতার: সম্ভল গ্রামে (মোরাদাবাদ জেলায়) বিষ্ণুযশা নামক তত্ত্বজ্ঞানী ব্রাহ্মণের পুত্ররূপে আবির্ভূত হবেন। (শ্রীমদ্ভাগবত, ১.৩.৬-২৫)

Advertisements