“যিনি সর্বত্র আমাকে (শ্রীকৃষ্ণ) দর্শন করেন এবং আমাতেই সমস্ত বস্তু দর্শন করেন, আমি কখনও তাঁর দৃষ্টির অগোচর হই না এবং তিনিও আমার দৃষ্টির অগোচর হন না।” (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, ৬/৩০)

“ভক্ত আমাকে তাঁর হৃদয়ে প্রেমের বন্ধনে বেঁধে রেখেছে। যেখানেই তাঁর নেত্র পড়ে, সেখানেই সে আমাকে দর্শন করে।” (শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত, মধ্য ২৫/১২৭)

krishna-and-his-pure-devotee-srila-prabhupada


এইরকম প্রেমীভক্ত, যিনি প্রণয় বন্ধনে তাঁর হৃদয়ে শ্রীকৃষ্ণকে বেঁধে রেখেছেন, তিনিই সর্বত্র শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করেন, তাছাড়া অন্য কেউ সর্বত্র শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করতে পারবে না। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং বলেছেন, –

“আমি মূঢ় ও বুদ্ধিহীন ব্যক্তিদের কাছে কখনও প্রকাশিত হই না। তাদের কাছে আমি আমার অন্তরঙ্গা শক্তি যোগমায়ার দ্বারা আবৃত থাকি। তাই তারা আমার অজ ও অব্যয় স্বরুপকে জানতে পারে না।” (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, ৭/২৫)

পক্ষান্তরে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে গোপন রাখেন। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যদি নিজেকে গোপন রাখেন, তাহলে আমরা কেমন করে তাঁকে দর্শন করব? আর কে-ই বা তাঁকে দর্শন করতে পারবেন?
“ভক্ত আমা প্রেমে বান্ধিয়াছে হৃদয়-ভিতরে।
যাঁহা নেত্র পড়ে তাঁহা দেখয়ে আমারে।।” (শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, মধ্য, ২৫/১২৭)


কেবল এইরকম একজন প্রেমীভক্ত তাঁকে দর্শন করতে পারবেন, যিনি কৃষ্ণপ্রেম লাভ করেছেন, যিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে প্রণয়-রজ্জুর দ্বারা তাঁর হৃদয়ে বেঁধে রেখেছেন, তিনিই কেবল সর্বত্রই শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করতে পারবেন। এমনকি শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং, যিনি সর্বশক্তিমান, তিনিও সেই বন্ধন ছিন্ন করতে পারেন না। তিনি বলেছেন, “ন পারয়ে, ন পারয়ে, ন পারয়েহহং” – অর্থাৎ “আমি ছিন্ন করতে পারব না, ছিন্ন করতে পারব না, ছিন্ন করতে পারব না।” এটা হচ্ছে এরকম একটি অতি দৃঢ় বন্ধন। কৃষ্ণ এরকম একজন প্রেমীভক্তের কাছে নিজেকে কখনই গোপন রাখতে পারেন না। যদিও তিনি নিজেকে গোপন রাখেন, তথাপি একজন প্রেমী-ভক্ত সর্বত্রই তাঁকে দর্শন করেন।

Advertisements