দীপাবলির পরের দিন অন্নকূট বা গোবর্ধন পূজা। ঐদিন বৃন্দাবনবাসীগণ (শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলার সময়কার) দেবরাজ ইন্দ্রের সন্তুষ্টিবিধানার্থে উৎসব করতেন, যেন তিনি সন্তুষ্ট হয়ে বৃষ্টি প্রদান করেন, ফলে ভাল ফসল উৎপন্ন হবে।

tumblr_nxpa177AjT1s0gs5so1_500.jpg

স্বর্গের রাজ্যপদ নিয়ে ইন্দ্র অধিক গর্বিত হয়েছে বুঝতে পেরে ভগবান বৃন্দাবনবাসীদের পরম্পরাগত ধারণা বদলে গোবর্ধনের পূজা করতে বললেন, যেহেতু গোবর্ধনের উর্বর মৃত্তিকার ঘাস খেয়ে বৃন্দাবনের গাভী ও ষাঁড়গগুলি বেঁচে রয়েছে, এবং এই ষাঁড়গুলিকে দিয়ে হাল চাষ করা যাবে এবং তাতে ভাল ফসল হবে। ইন্দ্রদেব বৃন্দাবনবাসীদের এই পরিবর্তনে অসন্তুষ্ট হয়ে প্রবল বজ্র ও বারিবর্ষণ করতে লাগলেন। বৃন্দাবনের ঘরবাড়ি, গাভী, বাছুরগুলি ভেসে যেতে লাগল। সকলে শ্রীকৃষ্ণের শরণাগত হওয়ায় পরম পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বাম হাতের কণিষ্ঠ আঙুলে ২১ কিলোমিটার পরিধিবিশিষ্ট গোবর্ধন পর্বতকে ধারণ করলেন, যেন তিনি একটি ছাতার নিচে সমস্ত বৃন্দাবনবাসীকে তাঁদের গাভী, বাছুরসমেত নিরাপদে রাখলেন।

129_1977_12-11-34.jpg

বজ্রপাত ও বর্ষণ আরো প্রবলভাবে বৃদ্ধি পেল। ইন্দ্রদেব ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে গেলেন। এভাবে সাতদিন প্রবল বর্ষণের পর ইন্দ্রদেব তার ভুল বুঝতে পারলেন এবং স্বর্গ থেকে নেমে এসে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নিকট করজোড়ে প্রার্থনা ও ক্ষমাভিক্ষা করলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, তিনি ভগবানের অনুগত সেবক মাত্র। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাকে বললেন যে, “আমি হচ্ছি দেবতাদের দেবতা, দেবেশ্বর, আমি সর্ব কারণের পরম কারণ। আমাকে পূজা করলে সমস্ত দেবতারা সন্তুষ্টিলাভ করেন।”

কয়েক হাজার বছর পর, অনুরূপভাবে, শ্রী মাধবেন্দ্রপুরী গোবর্ধন পর্বতের চূড়ায় স্ব-প্রকটিত গোপালের বিগ্রহ ও মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

উৎসবটি উদযাপন করার জন্য ভক্তরা পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী দিয়ে পর্বতের প্রতিরূপ তৈরী করেন, পর্বতের অধিপতি শ্রীকৃষ্ণকে চূড়ায় প্রতিষ্ঠিত করেন এবং ভগবানের অবতাররূপে গোবর্ধনের পূজা করেন এবং গাভী-ষাঁড়দের, যারা ভগবানের অত্যন্ত প্রিয়, পূজা করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে সকল ভক্তবৃন্দের উদ্দেশ্যে পর্বতরূপী সুস্বাদু মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। বিশ্বের প্রতিটি বৈষ্ণবীয় মন্দিরে এই উৎসবটি উদযাপন করা হয় এবং আগত ভক্তদের মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।

Advertisements