পারমার্থিক মার্গে অগ্রগতিকারী ভক্ত বা সাধুর মুখ্য লক্ষণ হলো – তিনি জীবনে কৃষ্ণৈক-শরণত্ব আচরণ করে থাকেন। কৃষ্ণভক্তি বিতরণই তাঁর একমাত্র কার্য। এ ছাড়াও সাধুর আরও ২৭ টি গুণ রয়েছে। সেগুলি হল – দয়ালু, সর্বভূতে বিদ্বেষশূণ্য, ক্ষমাবান, সত্যবলযুক্ত, অসূয়ারহিত, সমচিত্ত, সর্বভূতহিতেরত, কামে অক্ষুব্ধচিত্ত, দান্ত (সংযতেন্দ্রিয়), মৃদু স্বভাবসম্পন্ন, সদাচারী, অকিঞ্চন, লৌকিক ক্রিয়ারহিত, মিতভুক (পরিমিত আহারী), শান্ত, স্থির, মননশীল, অপ্রমত্ত, নির্বিকার, ধৈর্যযুক্ত, ক্ষুৎপিপাসাদি ষড়গুণ বিজয়ী, অমানী, মানদ, পরপ্রবোধদক্ষ (অপরকে হরিকথা বুঝাতে বা হরিভজন করাতে নিপুণ), অবঞ্চক, কারুণিক, কবি অর্থাৎ জ্ঞানী। এইরকম সাধু বেদশাস্ত্রে উদ্দিষ্ট স্বধর্ম-সমূহ অনুষ্ঠিত করে চিত্তশুদ্ধি প্রভৃতি গুণ ধারণ করে থাকেন।

FB_IMG_1479162810020.jpg

আবার, সাধুদের মহান গুণরাশি বর্ণনা দিতে গিয়ে শ্রীকপিলদেব বলেছেন,-

“তিতিক্ষবঃ কারুণিকাঃ সুহৃদঃ সর্বদেহিনাম্।

অজাতশত্রবঃ শান্তাঃ সাধবঃ সাধুভূষণাঃ।।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ৩/২৫/২১)

“সেই সাধুর লক্ষণ হলো, তিনি সহনশীল, দয়ালু ও সমস্ত জীবের সুহৃৎ বা মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী বন্ধু। তাঁর কোন শত্রু নেই, অর্থাৎ তিনি অজাতশত্রু। তিনি শান্ত, তিনি শাস্ত্রের নির্দেশ অনুসারে আচরণ করেন, এবং তিনি সমস্ত সদগুণের দ্বারা বিভূষিত।”

“তাঁরা সতত ভগবৎ বিষয়ক কথা শ্রবণ, কীর্তনে রত থাকেন। যেহেতু তাঁরা সর্বদা ভগবানের দিব্যলীলাসমূহ ও গুণাবলী স্মরণ করে থাকেন, তাই তাঁরা জড়জাগতিক দুঃখ-যন্ত্রণার শিকার হন না।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ৩/২৫/২৩)

“সাধুদের সঙ্গে সর্বদা বীর্যবতী হরিকথা প্রসঙ্গ আলোচিত হয়। যা শ্রবণ করলে হৃদয় ও কর্ণ রসায়ন হয় এবং সমস্ত অপবর্গ দূর হয়ে ক্রমশ ভগবৎ-পদারবিন্দে শ্রদ্ধা, রতি ও ভক্তি জাগ্রত হয়।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ৩/২৫/২৫)

সাধুসঙ্গই সংসারী জীবের ভক্তি লাভের একমাত্র উপায়। সাধুসঙ্গের ফলেই শ্রবণ, কীর্তনাদির দ্বারা মানুষের পাপাসক্ত চিত্ত পরিস্কৃত হয়ে ভগবৎ-প্রেম লাভের জন্য যোগ্য হয়।

“মহৎ কৃপা এব ভগবৎ কৃপা লেশাব্ধা।”

অর্থাৎ, “মহৎ কৃপা অথবা ভগবানের কৃপায়ই ভক্তি লাভ হয়।” এ প্রসঙ্গে শ্রীমন্মহাপ্রভুর উক্তি –

“মহৎ-কৃপা বিনা কোন কর্মে ‘ভক্তি’ নয়।

কৃষ্ণভক্তি দূরে রহু, সংসার নহে ক্ষয়।” (শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, মধ্য, ২২/৫১)

অর্থাৎ, “শুদ্ধ ভক্তের কৃপা ব্যতীত ভগবদ্ভক্তি লাভ করা সম্ভব নয়। কৃষ্ণভক্তি তো দূরের কথা, তার সংসার বন্ধনও মোচন হয় না।”

সাধুসঙ্গের মধুরতা সম্পর্কে সূচনা দিতে গিয়ে শ্রীমদ্ভাগবতে প্রচেতাগণ ভগবান বিষ্ণুকে বলেছেন, –

“যদি এই মর্ত্যলোকে শুদ্ধ ভক্তদের সঙ্গলাভ লবমাত্র অর্থাৎ নিমেষমাত্র মিলে থাকে, তাহলে তার সঙ্গে স্বর্গসুখ বা পুনর্ভবা মুক্তি তুলনীয় নয়। এ থেকে শ্রেষ্ঠ আশীর্বাদ এ মর্ত্যলোকবাসীর পক্ষে আর কি হতে পারে?” (শ্রীমদ্ভাগবত, ১/১৮/১৩) 

হরিবোল!

Advertisements