গুরু হচ্ছেন একজন সাধু বা ভক্ত, বৈষ্ণব। তিনি হচ্ছেন ভগবানের প্রকাশ বিগ্রহ। অর্থাৎ বিষয়বিগ্রহ ভগবান আশ্রয়বিগ্রহ ভগবান রূপে তথা গুরুরূপে নিজেকে প্রকাশ করেন,-

“ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবকে বলেছেন, সেই আচার্য বা সাধু, ভক্ত হচ্ছেন মৎ-স্বরূপ। তাঁকে একজন সাধারণ মানুষ বলে মনে করবে না। কেননা, তাঁর মধ্যে সমস্ত দেবতার অধিষ্ঠান আছে।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ১১/১৭/২৭)

কলিযুগে বদ্ধ জীবের কল্যাণার্থে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে চারি ভাবে প্রকাশ করেছেন –

“ভাগবত, তুলসী, গঙ্গায়, ভক্ত-জনে।

চতুর্ধ্বা বিগ্রহ কৃষ্ণ এই চারি সনে।।” (চৈতন্য ভাগবত, মধ্য, ২১/৮১)

4037543780_e19c893924.jpg

“ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে গ্রন্থ-ভাগবত (শাস্ত্র) রূপে, তুলসী, গঙ্গা ও ভক্ত বা সাধুরূপে প্রকাশ করেছেন।” তাই সেই ভক্ত শিরোমণি সাধু, বৈষ্ণবের হৃদয়ের ধন-স্বরূপ শ্রীকৃষ্ণকে পেতে হলে তাঁদের কৃপাপ্রার্থী হতে হবে।”

দুর্বাসা ঋষির প্রতি শ্রীভগবানের উক্তি রয়েছে,-

“যদিও সেই ভগবান স্বভিজ্ঞ, স্বরাট, তথাপি তিনি ভক্তের হৃদয়-বৃন্দাবনে সুদৃঢ় আসন স্থাপন করে থাকেন। সেই প্রেমীভক্ত তাঁর হৃদয় অধিকার করে নিয়ে থাকেন।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ৯/৪/৬৩)

নারদ-পঞ্চরাত্রে বলা হয়েছে-

“ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবকে বলেছেন, সেই আচার্য বা সাধু, ভক্ত হচ্ছেন মৎ-স্বরূপ। তাঁকে একজন সাধারণ মানুষ বলে মনে করবে না। কেননা, তাঁর মধ্যে সমস্ত দেবতার অধিষ্ঠান আছে।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ১১/১৭/২৭)

নারদের প্রতি স্বয়ং ভগবানের উক্তি –

“হে নারদ! আমি বৈকুণ্ঠে থাকি না, কিংবা যোগীদের হৃদয়েও থাকি না। কিন্তু, যাঁরা আমার প্রিয় ভক্ত বা সাধু, তাঁরা যেখানেই আমার লীলাবিলাসের গুণকীর্তন করে থাকেন, আমি কেবল সেখানেই বরাবর উপস্থিত থাকি।” (পদ্মপুরাণ)

আবার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভাগবতে বলেছেন,-

“সতী স্ত্রী যেভাবে তার সেবার মাধ্যমে সৎপতিকে বশীভূত করে থাকে, সেইভাবে সমদর্শী ও মদ্গতপ্রাণ সাধুগণও তাঁদের ভক্তির প্রভাবে আমাকে বশীভূত করে থাকেন।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ৯/৪/৬৬)

“শুদ্ধ ভক্ত বা সাধুগণ, যাঁরা ইহলোকে এবং পরলোকে কোন প্রকার জড়জাগতিক উন্নতি সাধনের বাসনা না রেখে কেবল আমার সেবার জন্য গৃহ, পত্নী, সন্তানসন্ততি, আত্মীয়স্বজন, ধনসম্পদ, এমনকি তাঁদের জীবন পর্যন্ত পরিত্যাগ করেছেন, সেই প্রকার ভক্তদের বা সাধুদেরকে পরিত্যাগ করে আমি কিভাবে ক্ষণকালের জন্য স্থির থাকতে পারব?” (শ্রীমদ্ভাগবত, ৯/৪/৬৫)

“হে দ্বিজশ্রেষ্ট, আমাকে একমাত্র আশ্রয়স্থল বলে বরণকারী সাধুদের ছাড়া আমি আমার চিন্ময় আনন্দ এবং পরম ঐশ্বর্য সকল ভোগ করতে ইচ্ছুক নই।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ৯/৪/৬৪)

হরে কৃষ্ণ!

Advertisements