ভগবদ্ভক্তির প্রথম পর্যায়টিকে বলা হয় সাধন ভক্তি। এটির অর্থ সাধক এক যথার্থ প্রামাণিক সদ্-সাধুর শ্রীমুখ থেকে কৃষ্ণকথা তথা শ্রীমদ্ভাগবত কথা শ্রবণ করবেন।

srila-prabhupada-speaking.jpg

শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন সর্বাকর্ষক এবং আমরা যদি শুদ্ধ কৃষ্ণকথা বলি তাহলে তা-ও সর্বাকর্ষক, তখন শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং সেখানে আকর্ষিত হন। শ্রীকৃষ্ণ এতই আকৃষ্ট হন যে, তিনি সেখানে দৌড়ে আসেন। তাই সাধকের সর্বদাই নিজ অপেক্ষা অধিক উন্নত বৈষ্ণব-সাধুর সঙ্গ করা উচিত, তাহলে তিনি পারমার্থিক পথে প্রগতি তথা উন্নতি করতে পারবেন। যদি একজন পণ্ডিত ব্যক্তি একজন মূর্খলোকের সঙ্গ করেন, তাহলে তাঁর সমস্ত পাণ্ডিত্য দিনের পর দিন ক্ষীণ হয়ে যাবে অর্থাৎ লোপ পেয়ে যাবে। কিন্তু যদি একজন মূর্খলোক একজন পণ্ডিত ব্যক্তির সঙ্গ করে, তাহলে সে-ও পরিণামে পণ্ডিতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। এমনই সঙ্গের প্রভাব। আমাদের তাই সেইরকম বৈষ্ণব-সাধু তথা ভক্তের সঙ্গ করা উচিত, যিনি আমাদের থেকে অধিক উন্নত, তাহলে আমরা পারমার্থিক পথে প্রগতি তথা উন্নতি করতে পারব।

শ্রীমদ্ভাগবতের চতুর্থ স্কন্ধে দেখতে পাওয়া যায়, দশ ভাই প্রচেতা তাঁদের পিতার আদেশে সমুদ্রগর্ভে জলের মধ্যে অবস্থান করে ভগবান শ্রীবিষ্ণুর প্রীত্যার্থে দশ হাজার বছর ধরে কঠোর তপস্যা করেছিলেন। তাঁদের কঠোর তপস্যায় ভগবান বিষ্ণু অত্যন্ত প্রসন্ন হয়ে তাঁদের সম্মুখে আবির্ভূত হয়ে যখন বর প্রার্থনা করতে বললেন, তখন তাঁরা বললেন, –

“হে প্রভু! ভগবৎসঙ্গীর সঙ্গ ভক্তদের নিমেষমাত্র সঙ্গ করার ফলে জীবের যে অসীম মঙ্গল সাধিত হয়, তার সঙ্গে স্বর্গ বা মোক্ষের তুলনা করা যায় না, তখন মরণশীল মানুষের জাগতিক সমৃদ্ধির কথা আর কি বলার আছে।”  (শ্রীমদ্ভাগবত, ৪.৩০.৩৪)

অতএব আমরা যদি নিজের মঙ্গল চাই, তাহলে সাধুর মুখোদ্গীর্ণ কৃষ্ণকথা তথা ভাগবতকথা শ্রবণ করার জন্য রুচি বর্ধিত করতে হবে। এর ফলে আমরা সাধুর কৃপা লাভ করতে পারব।

হরিবোল!

Advertisements