‘সংকীর্তন’ শব্দের অর্থ হলো বহু ভক্তের সম্মিলিত যে কীর্তন, আর একাকী যা করা হয় তাকে বলা হয় ‘কীর্তন’।

1

এই কলিযুগে সুমেধাসম্পন্ন ব্যক্তিগণ অবিরাম কৃষ্ণ-কীর্তনকারী ভগবানের অবতারকে আরাধনা করার জন্য সংকীর্তন যজ্ঞের অনুষ্ঠান করেন। যদিও তাঁর দেহ কৃষ্ণবর্ণ নয়, তবুও তিনি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। তিনি তাঁর সঙ্গী, সেবক, অস্ত্র এবং অন্তরঙ্গ-পার্ষদে পরিবৃত।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ১১.৫.৩২)

অতএব আমাদের একত্রে সম্মিলিত হয়ে সংকীর্তন যজ্ঞ অনুষ্ঠানের দ্বারা সেই পরম সত্যকে ধ্যান করা উচিত। কারণ, “জীবের ‘স্বরূপ’ হয় – কৃষ্ণের ‘নিত্য দাস’।” জীবরূপে আমাদের আসল পরিচয় হচ্ছে আমরা কৃষ্ণের নিত্য দাস। আমাদের সেই পরম সত্যকে ধ্যান করার অধিকার আছে। কিন্তু, আমরা মায়ার দ্বারা এমনই আবৃত হয়ে পড়েছি, আমাদের আর সে কথা স্মরণ হচ্ছে না। তাই সাধু-গুরু-বৈষ্ণবগণ, যাঁরা হচ্ছেন ভক্ত-ভাগবত, তাঁরা আসেন গ্রন্থ ভাগবতের মাধ্যমে আমাদেরকে সেই কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য। তাঁরা উপদেশছলে আমাদেরকে সর্বদা মনে করিয়ে দেন, “তোমাদের সেই পরম সত্য ভগবানকে কেবল ধ্যান করা উচিত। আর যদি তোমরা তা না কর, তাহলে তোমরা এই ইন্দ্রিয়ভোগ্য কুৎসিত মায়া পিশাচীকে ধ্যান করতে বাধ্য হবে। কিন্তু তা প্রকৃত ধ্যান নয়, তা হচ্ছে উপভোগ।”

অতএব আসুন আমরা একত্রে সম্মিলিত হয়ে এক প্রামাণিক সদ্ সাধু-গুরুর তত্ত্বাবধানে তাঁর ধ্যান অনুশীলন করি। যে পর্যন্ত আমরা এক যথার্থ প্রামাণিক শুদ্ধ ভক্ত-ভাগবতের মুখ থেকে শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ না করছি, সে পর্যন্ত আমরা বদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হতে পারব না।

“কেবলমাত্র বৈদিক শাস্ত্র শ্রবণ করার মাধ্যমে পরমপুরুষ শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তির উদয় হয় এবং তার ফলে শোক, মোহ এবং ভয় তৎক্ষণাৎ অপগত হয়।” (শ্রীমদ্ভাগবত, ১.৭.৭)

হরে কৃষ্ণ!

Advertisements